সিআরএর ব্যর্থতা বাড়তে দেওয়া উচিত হবে না কার্নির

জুমু চৌধুরী

কানাডা রেভিনিউ এজেন্সির (সিআরএ) দুর্বল পারফরমেন্স সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ক্ষমতায়ন করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কানাডা রেভিনিউ এজেন্সির (সিআরএ) দুর্বল পারফরমেন্স সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ক্ষমতায়ন করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক ফেডারেল বাজেটে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সিআরএ–কে অধিক সংখ্যক কানাডিয়ানদের হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর বিবরণী দাখিলের ক্ষমতা দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ করদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যদি চূড়ান্ত পরীক্ষায় মাত্র ১৭ শতাংশ নম্বর পান, তাকে উত্তীর্ণ হওয়া কেউই আশা করবে না। অথচ অডিটর জেনারেলের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সিআরএ সাধারণ ব্যক্তিগত কর–সংক্রান্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে মাত্র ১৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে তারা।

ব্যবসায়িক কর–সংক্রান্ত প্রশ্নেও চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়; সেখানে সঠিক উত্তরের হার মাত্র ৫৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে গ্রাহকসেবার নাজুক অবস্থা। গত বছর কানাডিয়ানদের মাত্র ৩২ শতাংশ ফোন কলেই সিআরএ প্রতিনিধিদের সাড়া পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দেশব্যাপী লক্ষ করদাতা দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও পরামর্শদাতা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। যারা সৌভাগ্যক্রমে ফোনে সিআরএ এজেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন, তাদেরও অনেকে ভুল তথ্য পেয়েছেন যা ভুল ফাইলিং, জরিমানা কিংবা অপ্রত্যাশিত করবকে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

কার্নি সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিআরএ আরও অধিক নাগরিকের ট্যাক্স রিটার্ন নিজেদের মতো করে তৈরি ও দাখিল করবে, যাকে বলা হচ্ছে অটোমেটিক ট্যাক্স ফাইলিং। সরকার বলছে এতে নিম্ন আয়ের ও প্রযুক্তি–অপরিচিত মানুষ উপকৃত হবে।

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন যে সংস্থা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে না, ফোনে নাগরিকদের সহায়তা দিতে ব্যর্থ, তাদের হাতে যদি রিটার্ন দাখিলের স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে ভুলের পরিমাণ আরও বাড়বে এবং করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বর্তমান কাঠামোতে সিআরএ একই সঙ্গে কর সংগ্রহকারী, এবং করদাতার রিটার্ন প্রস্তুতকারী দুই ভূমিকাই পালন করছে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি গুরুতর স্বার্থ–সংঘাত।

করদাতা হিসেবে একজন নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই চান যতটা সম্ভব কর সাশ্রয় করতে। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য থাকে সর্বোচ্চ আয় আদায় করা। একই প্রতিষ্ঠান যখন এই দুই বিপরীত স্বার্থের জায়গায় দাঁড়ায়, তখন নিরপেক্ষতার প্রশ্ন সামনে আসে।

অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদনে সিআরএর যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগাচ্ছে যে সংস্থা ১৭ শতাংশ সঠিক উত্তর দিতে পারে, তার হাতে কি আরও ক্ষমতা দেয়া উচিত?

সরকার দাবি করছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে সিআরএ আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হবে। তবে সমর্থকরা স্বীকার করছেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে সিআরএ–কে প্রথমে কার্যকর গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

Related Articles

Back to top button