ক্যাশলেস জামিন অবসানের অঙ্গীকার ফোর্ড সরকারের

লিয়াকত আলী

অন্টারিওর অ্যাটর্নি জেনারেল ডগ ডাউনি এক ঘোষণায় বলেছেন, ভঙ্গুর জামিন ব্যবস্থা সহিংস ও একই অপরাধ বারবার করা ব্যক্তিদের রাস্তায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে

অন্টারিও সরকার পুনরায় একই অপরাধ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রচলিত নগদ অর্থ ছাড়া জামিনের ব্যবস্থার কঠোর সংস্কার করতে যাচ্ছে। প্রদেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ডগ ডাউনি জানিয়েছেন, বর্তমান জামিনব্যবস্থা “ভঙ্গুর ও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ”, যার সুযোগ নিয়ে অনেক সহিংস ও পুনরাবৃত্ত অপরাধকারী বারবার রাস্তায় ফিরে আসছে। এর ফলে সাধারণ ও নিরপরাধ নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

কুইন’স পার্কে শিগগিরই উত্থাপিত হতে যাওয়া নতুন আইনে মূলত তিনটি বড় পরিবর্তন আসছে

১) নগদবিহীন জামিনের অবসান:

এখন পর্যন্ত আদালত অনেক ক্ষেত্রে কেবল জামিনের অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার ভিত্তিতে আসামীকে মুক্তি দিত। নতুন আইনে জামিন মঞ্জুর হওয়ার আগে অন্তত আংশিক হলেও জামিনের অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হবে।

২) বেইল প্রসিকিউশন টিমের শক্তিশালী ভূমিকা:

পুনরাবৃত্ত অপরাধকারী ও সহিংস অপরাধীদের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন টিম এখন আরও দৃঢ়ভাবে জামিনের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবে। আদালতে তারা জামিনের অর্থ তাৎক্ষণিক পরিশোধের আদেশ দেওয়ার অনুরোধও করতে পারবেন।

৩) আরও কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা:

যদিও বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, ফোর্ড সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে আইনের পরবর্তী অংশে অতিরিক্ত শর্ত, নজরদারি এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন আসতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ডাউনি বলেন, “বর্তমান দুর্বল ব্যবস্থা সহিংস অপরাধীদের সহজে ফের রাস্তায় ফিরতে দিচ্ছে এটি সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক।” তার দাবি, নগদ অর্থ ছাড়া জামিনের প্রচলন বাস্তবসম্মত নয়। অপরাধীদের মাঝে দায়িত্ববোধ এবং প্রতিরোধমূলক মানসিকতা তৈরির জন্য জামিন অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতা জরুরি।

কানাডায় জামিনব্যবস্থার বড় অংশ প্রাদেশিকভাবে পরিচালিত হলেও এর মূল আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে ফেডারেল সরকার। ফোর্ড সরকার দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেল সরকারকে আইন পরিবর্তনের চাপ দিয়ে আসছিল। অবশেষে লিবারেল সরকারের নেতৃত্বাধীন জাস্টিন ট্রুডো প্রশাসন কিছু পরিবর্তনে সম্মত হয়েছে।

বর্তমানে কমিটিতে পরীক্ষাধীন বিল সি-১৪ বিচারকদের আরও বেশি বিবেচনাধিকার দিচ্ছে। একই অপরাধ বারবার সংঘটনকারীদের ক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা বিলের মাধ্যমে কমে যাচ্ছে। এটি প্রাদেশিক সরকারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিরই প্রতিফলন।

এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ – পুনঃঅপরাধের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে, বিচারব্যবস্থার উপর জনআস্থা কমছে, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাড়ছে চাপ এবং ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

ফোর্ড সরকার মনে করছে জামিন সংস্কারের মাধ্যমে জননিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং অপরাধ প্রতিরোধ এই তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Related Articles

Back to top button