কাজ না করেই রেনোভেশনের নামে ৮৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নিল এক কোম্পানি

মাহবুবুল আলম

শহরে সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক গৃহস্থ নিজেদের বাড়ির বেজমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর করে অতিরিক্ত আয়ের পরিকল্পনা করছেন।

শহরে সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক গৃহস্থ নিজেদের বাড়ির বেজমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর করে অতিরিক্ত আয়ের পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে মিসিসোগার বাসিন্দা ক্রিস্টাবেল কার্লেট্টি ও তার স্বামী গিনো কার্লেট্টির জন্য। এক বছর আগে বাড়তি আয় ও অবসরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বেজমেন্ট সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারের অবহেলা ও প্রতারণায় তাদের বাড়ির প্রায় অর্ধেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।

কার্লেট্টি দম্পতি জানান, গত বসন্তে তারা অন্টারিওর ভন শহরভিত্তিক ‘ব্যাসিলিকা কনস্ট্রাকশন’ নামে এক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। কোম্পানির কাজ ছিল বেজমেন্টে একটি পূর্ণাঙ্গ কিচেন তৈরি করা এবং বাইরে থেকে আলাদা একটি প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা।

চুক্তি অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কাজ শুরুর আগেই কোম্পানিকে তারা ৩৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেন। এর কিছুদিন পর কাজ চালিয়ে যেতে ঠিকাদার আরও ৫০ হাজার ডলার দাবি করলে দম্পতি সেই অর্থও প্রদান করেন যা তারা পুরোপুরি ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু অর্থ পাওয়ার পর হঠাৎই কাজ থেমে যায়।

গিনো কার্লেট্টির ভাষ্য, বেজমেন্টটি আগেই প্রস্তুত ছিল। তারা শুধু অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর করার জন্য কিছু পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেজমেন্টের অর্ধেক অংশ ভেঙে ফেলে কাজ বন্ধ করে দেয়। “এটা ছিল একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বেজমেন্ট। তারা সেটি একদম ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। এরপর আর ফেরেনি,” বলেন গিনো।

দম্পতির অভিযোগ, প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু সময়ক্ষেপণই করেনি; বরং নির্মাণের অজুহাতে বড় ক্ষতিও করেছে। ফলে কাজ শেষ করতে এখন তাদের দ্বিতীয় একটি কোম্পানি নিয়োগ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচে।

ব্যাসিলিকা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কার্লেট্টি দম্পতি সামাজিক মাধ্যমে কোম্পানির অন্যান্য গ্রাহকদের খুঁজে বের করেন। সেখানে আরও কয়েকজন জানান, তাদের প্রকল্পও অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।

কোম্পানির সঙ্গে ফোনে এবং ইমেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গুগলে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাসিলিকা কনস্ট্রাকশনকে বর্তমানে “স্থায়ীভাবে বন্ধ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংস্কার কাজে নিয়মিত প্রতারণা ও অঙ্গীকারভঙ্গের ঘটনা অন্টারিওতে বাড়ছে। নির্মাণশিল্পের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম বড় অঙ্কের অর্থ না দেওয়া, লাইসেন্স যাচাই, লিখিত চুক্তি পরীক্ষা এবং অনলাইন রিভিউ যাচাই করা এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে কার্যকর হতে পারে।

কার্লেট্টি দম্পতি এখন আর্থিক ক্ষতি ও অসমাপ্ত প্রকল্প নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন। তারা এ ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন।

ক্রিস্টাবেলের ভাষায়, “আমরা ভেবেছিলাম অবসরে গেলে এই অ্যাপার্টমেন্টই আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দেবে। এখন সেই স্বপ্নটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।”

Related Articles

Back to top button