শিখন ও পরীক্ষণ পর্যালোচনা করবে অন্টারিও

আলী আহমেদ

একজন বা একাধিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা

অন্টারিও প্রদেশে শিক্ষার্থীদের শিখনে কীভাবে আরও কার্যকর সহায়তা দেওয়া যায় তা পর্যালোচনার নেতৃত্ব দিতে সরকারের বাইরে থেকে একজন বা একাধিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা। একই সঙ্গে প্রদেশের স্ট্যান্ডার্ডাইজড বা আদর্শমান পরীক্ষার কাঠামো ও কার্যকারিতাও খতিয়ে দেখা হবে। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের হতাশাজনক ফলাফলের প্রেক্ষাপটেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (ইকিউএও) সর্বশেষ স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। যদিও ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল আরও আগে, তবে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই তা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিলেন। ক্যালান্দ্রার ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল ফল প্রকাশ করাই নয়, বরং ফলাফলের গভীরে গিয়ে প্রকৃত সমস্যাগুলো বোঝার প্রয়োজন থেকেই তিনি প্রকাশ বিলম্বিত করেছিলেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও পড়া (রিডিং), লেখা (রাইটিং) এবং বিশেষ করে গণিতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এখনও সন্তোষজনক নয়। ইকিউএওর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ৬-এর প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী এবং গ্রেড ৯-এর ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে প্রাদেশিক আদর্শমান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিসংখ্যানকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ফলাফলে উন্নতি দেখা গেলেও তা যথেষ্ট নয় বিশেষ করে গণিতের ক্ষেত্রে আমরা এখনও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি।”

স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষা বাতিল করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যালান্দ্রা বলেন, ইকিউএও পরীক্ষাগুলো পুরোপুরি বাতিল করাই সর্বোত্তম সমাধান বলে তিনি মনে করেন না। তবে পরীক্ষার কাঠামো, ফল প্রকাশের সময়সূচি এবং ব্যবহারিক দিকগুলোতে উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, “একটি নির্দিষ্ট ধরনের পরীক্ষা ও মানদণ্ড থাকা জরুরি। তবে ফলাফল আরও দ্রুত এবং নিয়মিত প্রকাশ হওয়া উচিত।”

এই পর্যালোচনার নেতৃত্বে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে নতুন বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কর্মকর্তাদের পরিবর্তে বাইরের বিশেষজ্ঞ প্যানেল কেন প্রয়োজন এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্যালান্দ্রা বলেন, “যদি আমরা একই পদ্ধতিতে নিজেদেরই পর্যালোচনা করি, তাহলে বাস্তবতা বদলাবে না। বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাদেশিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।”

তিনি আরও বলেন, এই পর্যালোচনায় খতিয়ে দেখা হবে প্রদেশ কীভাবে শিক্ষকদের প্রস্তুত করছে, শিক্ষকদের কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, এবং অভিভাবকদের জন্য কী ধরনের সহায়ক ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেই মন্ত্রণালয়ের বাইরে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, “গত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে যারা নিজেদের কাজ নিজেরাই পর্যালোচনা করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে হয়তো আমরা সবচেয়ে কার্যকর ও সাহসী উত্তরটি আর পাব না। তাই নতুন কণ্ঠ, নতুন বিশ্লেষণ এবং নতুন সমাধান দরকার।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ যদি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক হয়, তবে তা অন্টারিওর শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পথ খুলে দিতে পারে। তবে সেই সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা এই পর্যালোচনার সুপারিশ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেয়।

Related Articles

Back to top button