কানাডাকে সাজোয়া যান বিক্রি না করার আহ্বান

দিদার হোসেন

বুধবার এনডিপির সংসদ সদস্য জেনি কুয়ান বলেন, তিনি এ ঘটনায় “গভীরভাবে হতাশ”। দি কানাডিয়ান প্রেসকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি জানান, আইসিইর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের কাছে কানাডীয় কোম্পানির তৈরি সাঁজোয়া যান বিক্রির উদ্যোগকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার ও অস্ত্রবিরোধী কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনেও অসন্তোষ বাড়ছে।

বুধবার এনডিপির সংসদ সদস্য জেনি কুয়ান বলেন, তিনি এ ঘটনায় “গভীরভাবে হতাশ”। দি কানাডিয়ান প্রেসকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি জানান, আইসিইর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি সংস্থার কাছে সামরিক বা আধাসামরিক সরঞ্জাম বিক্রি কানাডার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জেনি কুয়ান বলেন, “কানাডিয়ানরা চান আমাদের শিল্প ও সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৈতিক মানদণ্ড সমুন্নত রাখুক। একই সঙ্গে তারা চান না যেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপন্ন মানুষদের জীবনকে আরও অনিরাপদ করে তুলেছে তাদের আরও সামরিকীকরণ করা হোক।” তার ভাষায়, এই চুক্তি কানাডার ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে কানাডীয় প্রযুক্তি ও পণ্য বিদেশে মোতায়েনের ক্ষেত্রে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, আইসিই সম্প্রতি অন্টারিওভিত্তিক নির্মাতা রোশেল থেকে দ্রুতগতিতে ২০টি সাঁজোয়া যান কেনার অর্ডার দিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনীতিকদের সমালোচনা জোরালো হয়।

বেসরকারি গবেষণা ও শান্তিবাদী সংগঠন প্রজেক্ট প্লাউশেয়ারসের গবেষক কেসলি গ্যালাঘার বলেন, বিশ্বের যেকোনো নিরাপত্তা সংস্থার যদি একই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড থাকে, তাহলে তাদের কাছে এ ধরনের যান বিক্রি বন্ধে অটোয়ার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কানাডা সরকারের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা মেনে চলার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।” উল্লেখ্য, কানাডা ২০১৯ সাল থেকে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির রাষ্ট্রীয় পক্ষ, যা মানবাধিকার ঝুঁকি বিবেচনায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে সতর্কতা আরোপ করে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে আইসিইর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আটক, অমানবিক হেফাজত এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে। চলতি বছরের শুরুতে কানাডিয়ান নাগরিক জনি নোভিয়েলো আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর মায়ামির একটি ডিটেনশন সেন্টারে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান যা এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।

সমালোচকদের মতে, এমন প্রেক্ষাপটে আইসিইকে সাঁজোয়া যান সরবরাহ করা শুধু নৈতিক প্রশ্নই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও অস্ত্র রপ্তানি নীতির সঙ্গে কানাডার অঙ্গীকার নিয়েও গুরুতর সন্দেহের জন্ম দেয়। সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকরা।

Related Articles

Back to top button