রিটার্ন-টু-অফিস নীতি সত্ত্বেও টিটিসির যাত্রী কমেছে

মাসুদ করিম

কঠোর রিটার্ন-টু-অফিস (আরটিও) নীতির ফলে ২০২৫ সালটি টরন্টো ট্রানজিট কমিশনের (টিটিসি) জন্য একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের বছর হবে এমন প্রত্যাশাই করা হয়েছিল

কঠোর রিটার্ন-টু-অফিস (আরটিও) নীতির ফলে ২০২৫ সালটি টরন্টো ট্রানজিট কমিশনের (টিটিসি) জন্য একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের বছর হবে এমন প্রত্যাশাই করা হয়েছিল। ধারণা ছিল, সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন সশরীরে অফিসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা বাড়লে কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহনের যাত্রী সংখ্যায়। তবে টিটিসির সর্বশেষ প্রকাশিত উপাত্ত সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না।

টিটিসির নতুন বাজেট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ কয়েক মাসে যাত্রী সংখ্যা শুধু যে পূর্বাভাসের তুলনায় কম ছিল তা-ই নয়, বরং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়ও তা হ্রাস পেয়েছে। এই তথ্য সংস্থাটির জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজেট প্রতিবেদনে টিটিসির কর্মীরা উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের শরৎকাল থেকে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কঠোর ইন-অফিস নীতি কার্যকর করা হয়। নতুন নীতিমালায় বহু কর্মীর জন্য সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন অফিসে সরাসরি উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং মহামারি-পূর্ববর্তী সময়ের মতো গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়বে এমনটাই আশা করা হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশরীরে অফিসে উপস্থিতির দিন বাড়লেও যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি। বরং ২০২৫ সালের শেষে এসে টিটিসির যাত্রী সংখ্যা আগের বছরের তুলনায়ও কমেছে।

কঠোর অফিস নীতির পরও যাত্রী সংখ্যা না বাড়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ চিহ্নিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন টিটিসি কর্মকর্তারা।

টিটিসির একজন মুখপাত্র জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে মাসিক পাস বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। তাঁর ভাষায়, “আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা টিটিসির যাত্রী সংখ্যায় একটি বড় ভূমিকা রাখে। তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের সামগ্রিক যাত্রী সংখ্যার ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়েছে।”

টিটিসি ২০২৫ সালের জন্য মোট যাত্রী সংখ্যা প্রাক্কলন করেছিল প্রায় ৪১ কোটি ৪০ লাখ। কিন্তু বছরের শেষ দিকে এসে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বরং কিছু সময়ের যাত্রী সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমে যাওয়ায় সংস্থার পূর্বাভাস নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তবে টিটিসি পুরোপুরি হতাশ নয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে পারে। আগামী বছরের জন্য টিটিসি যাত্রী সংখ্যার নতুন প্রাক্কলন করেছে ৪২ কোটি ৬৪ লাখ, যা ২০২৫ সালের লক্ষ্যের চেয়েও বেশি।

নতুন বছরে টিটিসি পর্ষদের বৈঠকে এই বাজেট প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। সেখানে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে আরও আগ্রহী করে তোলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, কঠোর রিটার্ন-টু-অফিস নীতি যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণপরিবহনের যাত্রী সংখ্যা বাড়াবে এই ধারণা যে সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়, টিটিসির সাম্প্রতিক উপাত্ত তা স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৬ সালে সংস্থাটি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধারের পথে ফিরতে পারে।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button