অন্টারিওর কলেজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আলী আহমেদ

কানাডার ফেডারেল সরকারের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দেশটির সমগ্র উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

কানাডার ফেডারেল সরকারের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দেশটির সমগ্র উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে অন্টারিও প্রদেশের কলেজগুলোতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে একের পর এক প্রোগ্রাম বাতিল এবং বিভিন্ন শিক্ষাসেবা সংকোচনের বিষয়টি।

ফেডারেল সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্টাডি পারমিটের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে আনার ঘোষণার পরই অন্টারিওজুড়ে একাধিক কলেজ কয়েক ডজন শিক্ষাক্রম বা প্রোগ্রাম বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কলেজগুলোর বড় একটি অংশ তাদের আর্থিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল, কারণ দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি টিউশন ফি পরিশোধ করে থাকেন। এই বাড়তি আয় দিয়েই অনেক কলেজ বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও সহায়ক সেবা চালু রাখে।

অটোয়া সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কম সংখ্যক ভিসা বা স্টাডি পারমিট ইস্যু করবে। এর আগেই ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ওপর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফেডারেল সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডার অস্থায়ী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন বিভাগ ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট ইস্যু করবে। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৪ লাখ ৮৫ হাজার। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রবাহ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার দিকেই এগোচ্ছে কানাডা সরকার।

এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কলেজগুলোর শিক্ষাক্রমে। জর্জ ব্রাউন পলিটেকনিকের স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষা ও সমতা বিষয়ক পরিচালক টোবি লিউ বলেন, “এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।” তিনি জানান, যেসব প্রোগ্রাম বাতিল করা হচ্ছে, তার মধ্যে অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলভাবে পরিচালিত হতো।

সম্প্রতি জর্জ ব্রাউন কলেজে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন সাতটি হসপিটালিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বাতিল হওয়া অন্যান্য প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ম্যানেজমেন্ট, ইভেন্ট প্ল্যানিং এবং হোটেল অপারেশন ম্যানেজমেন্ট যেগুলো চাকরিমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিল।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু আন্তর্জাতিক নয়, দেশীয় শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকের পড়াশোনার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান বা ভিন্ন প্রোগ্রামে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য জর্জ ব্রাউন কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর ফলে শুধু কলেজগুলোর আর্থিক চাপই বাড়বে না, বরং কানাডার উচ্চশিক্ষা খাতে বৈচিত্র্য, গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। অন্টারিওর কলেজ শিক্ষার্থীরা এখন আশঙ্কা করছেন, এই নীতির খেসারত তাদেরই সবচেয়ে বেশি দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button