টরন্টো ও কুইবেক সিটির মধ্যে হাইস্পিড রেললাইন নির্মাণ ২০৩২ সালে শুরু

জুমু চৌধুরী

কানাডার দুই প্রাদেশিক রাজধানী টরন্টো ও কুইবেক সিটিকে যুক্ত করার প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল প্রকল্পের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের নির্মাণকাজ ২০৩২ সালে শুরু হতে পারে

কানাডার দুই প্রাদেশিক রাজধানী টরন্টো ও কুইবেক সিটিকে যুক্ত করার প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল প্রকল্পের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের নির্মাণকাজ ২০৩২ সালে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্টিন ইমব্লিউ। মঙ্গলবার মন্ট্রিয়লে এক বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মার্টিন ইমব্লিউ বলেন, প্রকল্পের প্রথম ধাপের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ শুরুর প্রায় দুই বছর পর মূল রেললাইন নির্মাণে গতি আসবে। তাঁর আশা, প্রাথমিক পর্যায়ের অগ্রগতির ওপর ভর করেই দুই প্রাদেশিক রাজধানীকে সংযুক্ত করার বৃহৎ নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্বের নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে ২০২৯ অথবা ২০৩০ সালে। এই ধাপে মন্ট্রিয়ল ও অটোয়াকে সংযুক্ত করা হবে। এটি শুধু প্রকল্পের সূচনা নয়, বরং কানাডার সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলে রেলযাত্রায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই অবকাঠামো প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ইমব্লিউ আরও জানান, প্রাথমিক নির্মাণ পর্ব শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই রেললাইনের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টরন্টো–অটোয়া অংশ আগে নাকি মন্ট্রিয়ল–কুইবেক সিটি অংশ আগে নির্মিত হবে এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি দিতে রাজি হননি।

প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মন্ট্রিয়ল–অটোয়া ট্র্যাক নির্মাণের সময়ই প্রয়োজনীয় প্রকৌশল কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এতে ভবিষ্যতের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক তৈরির পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এই হাইস্পিড রেল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘আল্টো’ নামে পরিচিত একটি ক্রাউন কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হচ্ছে টরন্টো ও মন্ট্রিয়লের ডাউনটাউনের মূল কেন্দ্রের কাছাকাছি স্টেশন স্থাপন করা। এ প্রসঙ্গে মার্টিন ইমব্লিউ বলেন, ইউনিয়ন স্টেশন ও সেন্ট্রাল স্টেশন দুটিই সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। “আমাদের দায়িত্ব খুবই সুনির্দিষ্ট, এবং আমাদের লক্ষ্য হলো যাত্রীদের ডাউনটাউন পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছে দেওয়া,” বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত এই রেল নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। নির্দিষ্ট কিছু ট্র্যাকে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার গতিতে। এর ফলে বর্তমান ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, টরন্টো ও মন্ট্রিয়লের মধ্যে যাতায়াতে সময় লাগবে মাত্র তিন ঘণ্টা। আর মন্ট্রিয়ল থেকে অটোয়া যেতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কানাডার আন্তঃনগর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। যাত্রী পরিবহন আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব হবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Back to top button