‘সফট পাওয়ার’ বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ট্রুডো–পেরি জুটি

কামরুল ইসলাম

সাবেক কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরিকে আবারও একসঙ্গে দেখা গেল এবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে।

সাবেক কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরিকে আবারও একসঙ্গে দেখা গেল এবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক মঞ্চে ট্রুডো যখন ‘সফট পাওয়ার’-এর গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন সামনের সারিতে বসে মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন কেটি পেরি। দু’জনের উপস্থিতি ঘিরে কূটনীতি, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

বক্তৃতায় ট্রুডো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় আট দশক ধরে যে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অধ্যায় চলেছে, তার অবসান ঘটেছে। বিশ্ব এখন এক নতুন পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে যেখানে শক্তিশালী দেশগুলো ক্রমেই সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের ওপর বিনিয়োগ, কার্যকর কূটনীতি এবং ন্যায্য বাণিজ্যই টেকসই সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। আর সেই সমৃদ্ধিই ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোকে শক্ত ভিত দেয়।

কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে পপুলিজমের উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রুডো বলেন, “গণতন্ত্রের মূল্যবোধ বিশ্বজুড়ে পিছিয়ে পড়েছে এমনকি সেসব দেশেও, যাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সবচেয়ে শক্ত।” তার বক্তব্যে উদ্বেগের পাশাপাশি ছিল সমাধানের আহ্বান কঠোর ক্ষমতার রাজনীতির বদলে সফট পাওয়ারকে সামনে আনার ডাক।

সফট পাওয়ার-এর উদাহরণ হিসেবে ট্রুডো তুলে ধরেন ইউক্রেনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের সময় ‘টিম কানাডা’র কৌশলগত অবস্থান। তার মতে, পারস্পরিক আস্থা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং নৈতিক নেতৃত্ব এই তিনটি মিলেই সফট পাওয়ার কার্যকর হয়।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ট্রুডো হালকা রসিকতার সুরে মন্ট্রিয়েলের একটি ছাদবাগান বারের একটি ঘটনা শোনান। তিনি বলেন, সেখানে তিনি “একজন আমেরিকান মেয়েকে” নিয়ে গিয়েছিলেন। জ্যাক-এন্ড-কোক অর্ডার করলে ওয়েটার জানায়, আমেরিকান অ্যালকোহল নেই শুধু ওই বারে নয়, পুরো দেশেই নেই। ট্রুডোর ভাষায়, “এটাই সফট পাওয়ার অনিশ্চয়তার সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো।” তিনি কার কথা বলছিলেন, তা স্পষ্ট না করলেও, গত জুলাইয়ে মন্ট্রিয়েলের একটি বারে ট্রুডো ও কেটি পেরিকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই জল্পনা চলছেই।

ডাভোসের এই উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল। গত কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিকবার এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা গেছে। গত অক্টোবরে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল সান্তা বারবারা উপকূলে কেটি পেরির ইয়টে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে। একই মাসে প্যারিসে একটি ক্যাবারে শো শেষে হাত ধরে বেরোতেও দেখা যায় দু’জনকে।

ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দু’জনেই জাপান সফরের ছবি পোস্ট করেন টোকিও ঘোরা থেকে শুরু করে সাবেক জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও তার স্ত্রী ইউকোর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের মুহূর্তও ধরা পড়ে সেখানে। সেই পোস্টে ট্রুডো লেখেন, “ফুমিও, তোমার বন্ধুত্ব এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।”

সব মিলিয়ে ডাভোসের WEF মঞ্চে ট্রুডোর বক্তব্য যেমন বৈশ্বিক রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে, তেমনই কেটি পেরির উপস্থিতি তাদের সম্পর্ক ঘিরে চলমান আগ্রহকে আরও তীব্র করেছে। সফট পাওয়ার, কূটনীতি ও সংস্কৃতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে এই জুটি আপাতত বিশ্বমাধ্যমের নজরেই।

Related Articles

Back to top button