নেতৃত্বের পরীক্ষায় ভালোভাবেই উৎরে গেলেন পয়লিয়েভর

দিদার হোসেন

এই ফলাফল পয়লিয়েভরের নেতৃত্বে কনজার্ভেটিভদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে

কানাডার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করলেন পিয়েরে পয়লিয়েভর। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কনজার্ভেটিভ পার্টি অব কানাডা–র নেতৃত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় নেতৃত্বমূলক পরীক্ষায় তিনি বিপুল সমর্থন নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বের পর্যালোচনায় পয়লিয়েভর পেয়েছেন ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন যা তাকে দলের অভ্যন্তরে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

শুক্রবার রাতে ক্যালগেরিতে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে দলীয় সদস্যদের উপস্থিতিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শনিবার রাত ১টার আগেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, এই ফলাফল পয়লিয়েভরের নেতৃত্বে কনজার্ভেটিভদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

এর আগের দিন সন্ধ্যায় দলের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পয়লিয়েভর বলেন, “এখানে আসাটা সত্যিই দারুণ।” প্রায় ৫০ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি একাধিকবার উপস্থিত সমর্থকদের দাঁড়িয়ে করতালির মধ্য দিয়ে অভিবাদন পান। হলের ভেতরে বারবার “পিয়েরে, পিয়েরে” ধ্বনি শোনা যায়, যা তার প্রতি দলের তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বক্তৃতায় পয়লিয়েভর বর্তমান লিবারেল সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। উচ্চ করের বোঝা, তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রোসারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য তিনি সরাসরি লিবারেল পার্টিকেই দায়ী করেন। তার ভাষায়, “সহজভাবে বললে, লিবারেল সরকারের অধীনে কানাডিয়ানরা জীবন চালাতে পারছেন না।”

তিনি আরও বলেন, যারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন অথচ যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না কাজের ভারে ন্যুব্জ সেই মানুষগুলোর জন্যই তিনি রাজনীতিতে লড়াই করছেন। পয়লিয়েভরের দাবি, নিয়ন্ত্রণহীন উন্মুক্ত সীমান্ত ও অভিবাসন নীতি কানাডার স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও চাকরির বাজারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি “বর্জনের সংস্কৃতি” ও “পরিচয়বাদী রাজনীতি”-কে কানাডিয়ান সমাজের বিভাজনের জন্য দায়ী করেন।

বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পুনরুত্থান দেশের জাতীয় ঐক্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। তার মতে, টানা এক দশক লিবারেল শাসনের পর কানাডা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল, অপরাধপীড়িত, ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামাজিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি, অভিবাসন, জাতীয় ঐক্য থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্নতাবাদ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পয়লিয়েভর। বিশেষভাবে তিনি তার প্রস্তাবিত “কানাডিয়ান সার্বভৌমত্ব আইন” নিয়ে জোরালো বক্তব্য দেন, যা তার রাজনৈতিক দর্শনের একটি কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল সমর্থন কেবল পয়লিয়েভরের নেতৃত্বকে বৈধতা দিলই না, বরং আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে কনজার্ভেটিভ পার্টিকে আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক কৌশল নেওয়ার সুযোগ করে দিল।

Related Articles

Back to top button