মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে টরন্টো বিমানবন্দরে আরও যাত্রী অবতরণ

মাসুদ করিম

দুবাই থেকে আগত যাত্রীরা কানাডার মাটিতে পা রাখার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ক্রমেই বাড়ছে সেখান থেকে বিদেশি নাগরিকদের দেশত্যাগের প্রবণতা। এই পরিস্থিতিতে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু কানাডিয়ান নাগরিক নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। শনিবার কানাডার টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমনই এক আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায় ফুল, বেলুন ও উন্মুক্ত বাহু নিয়ে স্বজনরা অপেক্ষা করছিলেন প্রিয়জনদের স্বাগত জানাতে।

দুবাই থেকে আগত যাত্রীরা কানাডার মাটিতে পা রাখার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে একইসঙ্গে তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং তার পরবর্তী অস্থিরতার সময় অঞ্চলটিতে আটকে পড়া কানাডিয়ানদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন।

টরন্টোতে পৌঁছানোদের মধ্যে ছিলেন হাসেশ আবুল, যিনি স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে দুবাই থেকে ফিরে এসেছেন। গত এক সপ্তাহ তার পরিবারের জন্য ছিল ভীষণ আতঙ্কের ছিল বলে জানান তিনি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

টরন্টোর আরেক বাসিন্দা ব্রাউন, যিনি আংশিকভাবে দুবাইয়ে বসবাস করেন, তিনি জানান তার পরিবারের বাড়ি একটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ার কারনে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, “এটা সত্যিই খুব ভীতিকর অভিজ্ঞতা ছিল। বিস্ফোরণের শব্দ আপনি শুনতে পাচ্ছেন, এমনকি তাঁদের বাড়িটিও কেঁপে উঠছিল। জীবনে এর আগে কখনো এতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পরবর্তী প্রথম কয়েকদিন ছিল সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য তিনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। একদিন তিনি সন্তানদের নিয়ে সমুদ্র সৈকতে ছিলেন, আর পরদিনই পরিস্থিতি হঠাৎ করে বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ব্রাউন বলেন “আমরা সবাই জানালা থেকে দূরে নিচতলার লিভিং রুমে একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলাম, যাতে কোনো বিপদ হলে কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়,”।

হাসেশ আবুলের পরিবার এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টরন্টো পৌঁছায়। ওই ফ্লাইটে কানাডিয়ান সরকার মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরতে চাওয়া নাগরিকদের জন্য ৫১টি আসন সংরক্ষণ করেছিল। তবে বাস্তবে অনেকের মতোই আবুলের পরিবারকেও নিজেদের উদ্যোগেই টিকিট নিশ্চিত করতে হয়েছে। হাসেশ আবুল জানান, সপ্তাহের শুরুতে কানাডার ফেডারেল সরকার মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের নিজ নিজ উদ্যোগে অঞ্চলটি ত্যাগের পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছিল। এতে অনেকেই হতাশ হয়েছেন। আবুল আরও জানান, “এখনও অনেক কানাডিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে আটকে আছেন। সরকারের উচিত দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ার ফলে সেখানে বসবাসরত বা কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদিকে কানাডা সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রবাসী কানাডিয়ানদের একটি অংশ মনে করছেন, বাস্তবে সেই সহায়তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হবে তা অনুমান করা এখনো অনিশ্চিত। ফলে আপাতত সেখানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত রয়েছে।

Masud Karim : Local Journalism Initiative Reporter

Related Articles

Back to top button