প্রস্তাবিত বাড়ি ভাড়া টানা ১৭তম সপ্তাহের মতো কমেছে

আনাস মোহাম্মদ

কানাডার আবাসন খাতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দেশটির ভাড়াবাজারে একটি স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

কানাডার আবাসন খাতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দেশটির ভাড়াবাজারে একটি স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া টানা ১৭তম সপ্তাহের মতো কমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২,০৩০ কানাডিয়ান ডলার। এই তথ্য উঠে এসেছে রেন্টালসডটসিএ এবং আরবানেশনের যৌথ মাসিক প্রতিবেদনে, যা আরবানেশনের বিস্তৃত লিস্টিং নেটওয়ার্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ভাড়া কমেছে ২.৮ শতাংশ। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায়ও ভাড়া কমেছে ১.৩ শতাংশ। ফলে দেশের গড় ভাড়া এখন গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুই বছর আগের তুলনায় বর্তমান ভাড়া প্রায় ৭.৪ শতাংশ কম। যদিও তিন বছর আগের তুলনায় এখনো ভাড়া ২.৩ শতাংশ বেশি যা ইঙ্গিত দেয়, কোভিড-১৯ মহামারির পরবর্তী সময়ের ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পুরোপুরি এখনও কাটেনি।

আরবানেশনের প্রেসিডেন্ট শন হিল্ডারব্র্যান্ডের মতে, কানাডার ভাড়াবাজার বর্তমানে একটি “ঐতিহাসিক সংশোধন পর্যায়ে” রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে নতুন আবাসন প্রকল্পগুলোর জন্য অপেক্ষা চলছিল, সেগুলো এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আবাসনের চাহিদা কিছুটা কমেছে। ফলে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা কম থাকায় ভাড়ার ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের আবাসনের ক্ষেত্রে ভাড়ার হ্রাসের মাত্রাও ভিন্ন: পারপাস-বিল্ট অ্যাপার্টমেন্ট: ১.৯% কমে ২,০৩০ ডলার, কন্ডোমিনিয়াম অ্যাপার্টমেন্ট: ৫.১% কমে ২,০৮২ ডলার এবং হাউজ ও টাউনহাউজ: ৪.৫% কমে ২,০০৯ ডলার। এখানে দেখা যাচ্ছে, কন্ডোমিনিয়াম খাতে ভাড়ার পতন তুলনামূলকভাবে বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ভাড়ার পরিবর্তনে বৈচিত্র্য দেখা গেছে। যেসব প্রদেশে ভাড়া কমেছে সেগুলি হল আলবার্টা: ৪.৪% কমে ১,৬৫৬ ডলার, অন্টারিও: ৪.৩% কমে ২,২২৯ ডলার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া: ৪.২% কমে ২,৩৫৪ ডলার, কুইবেক: ২.৭% কমে ১,৯১৬ ডলার। এবং যেসব প্রদেশে ভাড়া বেড়েছে সেগুলি হল নোভা স্কশিয়া: ৬.৩% বেড়ে ২,৩০৭ ডলার, সাস্কেচুয়ান: ৩.৩% বেড়ে ১,৩৭৩ ডলার এবং ম্যানিটোবা: ২.৩% বেড়ে ১,৬৪৪ ডলার। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বৃহৎ নগরভিত্তিক বাজারগুলোতে চাপ বেশি থাকলেও ছোট বা মাঝারি প্রদেশগুলোতে এখনও ভাড়ার চাহিদা শক্তিশালী।

বর্তমান পরিস্থিতি ভাড়াটিয়াদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। দীর্ঘদিনের উচ্চ ভাড়ার চাপের পর এখন তুলনামূলক কম দামে বাসস্থান পাওয়া যাচ্ছে। নতুন ভাড়াটিয়াদের জন্য এটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বাড়ির মালিক ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি ততটা সুখকর নয়। ভাড়া কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমছে, পাশাপাশি সুদের হার ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ার ফলে লাভের মার্জিন সংকুচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে যদি নতুন আবাসন সরবরাহ আরও বাড়ে এবং চাহিদা দ্রুত পুনরুদ্ধার না হয়। তবে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন বা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হলে বাজার আবার স্থিতিশীল হতে পারে। কানাডার ভাড়াবাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরপর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ ও চাহিদার এই নতুন ভারসাম্য ভবিষ্যতের বাজার কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এখন দেখার বিষয়, এই পতন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা বাজারকে কোথায় নিয়ে যায়।

Related Articles

Back to top button