কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও বিমা কাভারেজের আওতা বাড়াচ্ছে অন্টারিও

মাসুদ করিম

শ্রমমন্ত্রী পিচ্চিনি জানিয়েছেন, সম্মুখসারীতে কাজ করা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব

কানাডার অন্টারিও প্রদেশ সরকার বেসরকারিভাবে পরিচালিত রিটায়ারমেন্ট হোম ও গ্রুপ হোমে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়ক কর্মীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও বিমা কাভারেজ নিশ্চিত করতে নতুন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগকে শ্রম আইন সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রদেশটির শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনি।

শ্রমমন্ত্রী পিচ্চিনি জানিয়েছেন, সম্মুখসারীতে কাজ করা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “কাজের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কর্মীরা যেন যথাযথ সুরক্ষা পান, সেটি তাদের মৌলিক অধিকার।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত একটি খাতকে এবার প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। বিশেষ করে মহামারির পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীদের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠায় এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে বেসরকারি রিটায়ারমেন্ট হোম, গ্রুপ হোম এবং ফস্টার হোমগুলো ওয়ার্কপ্লেস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বোর্ডের বাধ্যতামূলক কাভারেজের আওতায় পড়ে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজার হাজার কর্মী কাজের সময় আহত হলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে সরকারি বিমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯ হাজার কর্মী এই কাভারেজের বাইরে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন নার্স, পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার, এবং রেসিডেন্ট কেয়ার ওয়ার্কাররা যারা প্রতিদিন উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থেকে রোগী ও প্রবীণদের সেবা দিয়ে থাকেন।

নতুন প্রস্তাবিত আইনের আওতায় এলে এই কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা পেশাগত অসুস্থতার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সুবিধা এবং পুনর্বাসন সহায়তা পাবেন। এটি শুধু কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তাই বাড়াবে না, বরং তাদের মানসিক চাপও কমাবে। এই উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীদের ধরে রাখা সহজ হবে এবং নতুন কর্মী আকৃষ্ট করতেও সহায়ক হবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কর্মপরিবেশ উন্নত করতে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই পরিচালন ব্যয়ের চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে নতুন বিমা বাধ্যবাধকতা তাদের জন্য কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সবদিক বিবেচনায়, অন্টারিও সরকারের এই পদক্ষেপকে শ্রম অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এক বৃহৎ কর্মী গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক সুরক্ষার ছাতার নিচে আনবে। যদি পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি শুধু কর্মীদের জীবনমান উন্নত করবে না, বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও আরও টেকসই ও মানবিক করে তুলবে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button