এলআরটির জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল অগ্রাধিকার আপনার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে?

মাসুদ করিম

টরন্টো শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সিটি কর্তৃপক্ষ

কানাডার টরন্টো শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সিটি কর্তৃপক্ষ। ফিঞ্চ ও এগলিন্টন মোড়ে চলাচলকারী এলআরটি (লাইট রেল ট্রানজিট) যানবাহনের জন্য চালু হতে যাচ্ছে বিশেষ ট্রাফিক সিগন্যাল অগ্রাধিকার ব্যবস্থা। এর ফলে ট্রেন বা এলআরটি যানবাহনকে লালবাতিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, তবে ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই নতুন ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে “ট্রাফিক সিগন্যাল প্রায়োরিটি” বা টিএসপি। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গণপরিবহনকে দ্রুত এবং সময়ানুবর্তী করা। বিশেষ করে ব্যস্ত মোড়গুলোতে এলআরটি যানবাহন পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সিগন্যাল পরিবর্তন করে তাদের জন্য সবুজ বাতি নিশ্চিত করা হবে। ফলে ট্রেনকে থেমে থাকতে হবে না এবং যাত্রী পরিবহন আরও দ্রুত হবে।

তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে সাধারণ গাড়িচালকদের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব চালক মোড়ে বাম দিকে মোড় নিতে চান, তাদেরকে অনেক সময় ট্রেন পার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে লালবাতির পেছনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ নারায়ন ডোনাল্ডসন, যিনি মবিকনের ইন্টিগ্রেটেড মোবিলিটি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন, জানিয়েছেন টিএসপি কোনো স্থির ব্যবস্থা নয়; এটি একটি পরিবর্তনশীল এবং পরিস্থিতিনির্ভর মডেল। তিনি বলেন, “অনেকেই ভাবছেন এতে হয়তো বিশাল পরিবর্তন হবে। বাস্তবে ছোট ছোট সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্রানজিটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা পুরো নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না।”

ডোনাল্ডসনের মতে, আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থায় গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এখন বিশ্বব্যাপী একটি প্রচলিত নীতি। কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী বহনকারী ট্রানজিট যানবাহনের গতি বাড়াতে পারলে সামগ্রিক যানজটও কমানো সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় এলআরটি অনেক বেশি যাত্রী পরিবহন করে। তাই নগর পরিকল্পনায় ট্রানজিটকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এখন বাস্তবসম্মত সমাধান।

টরন্টোর মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। বিশেষ করে গাড়িচালকদের নতুন নিয়ম ও সিগন্যাল ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে। অন্যদিকে, গণপরিবহন ব্যবহারকারীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এলআরটি যদি দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে চলতে পারে, তাহলে আরও বেশি মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করতে উৎসাহিত হবেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে সড়কে গাড়ির চাপও কমবে।

সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ব্যবস্থাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোথাও অতিরিক্ত যানজট তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যাল সময় পুনর্নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ এটি একটি চলমান সমন্বয় প্রক্রিয়া, যেখানে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরিবর্তন আনা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এখন দ্রুতগামী ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করছে। আর সেই লক্ষ্যেই টরন্টো শহর এলআরটির জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার সিগন্যাল চালুর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button