অয়েল ট্যাংকার নিষিদ্ধের দাবি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ারের

মাসুদ করিম

উত্তরাঞ্চলীয় জলসীমায় অয়েল ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিভিন্ন ফার্স্ট নেশনের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রিমিয়ার ডেভিড এবি

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় জলসীমায় অয়েল ট্যাংকার চলাচলের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে প্রদেশের বিভিন্ন ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন প্রিমিয়ার ডেভিড এবি। পরিবেশ রক্ষায় এবং ফার্স্ট নেশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নতুন করে যে “নর্থ কোস্ট প্রোটেকশন ডিক্লারেশন” ঘোষিত হয়েছে, তা এই লক্ষ্যেই প্রদেশের সাম্প্রতিকতম পদক্ষেপ।

ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়, উত্তর উপকূলে কোনো ধরনের তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটলে তা উপকূলীয় অঞ্চলে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনবে। শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয় আশপাশের গ্রাম, মৎস্যজীবী সম্প্রদায়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগতভাবে সমুদ্রনির্ভর ফার্স্ট নেশনদের বহু প্রজন্মের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে হবে অপূরণীয় পরিবেশগত ধ্বংস, যা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রগুলোর একটিকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

এই অবস্থানের বিপরীতে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন যার লক্ষ্য অপরিশোধিত তেল ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উত্তর উপকূলে এনে সেখান থেকে এশিয়ার বাজারে রপ্তানি করা। পরিবেশবিদরা ও উপকূলীয় ফার্স্ট নেশনের নেতারা বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানে বড়সড় আঘাত হানতে পারে।

ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রিমিয়ার ডেভিড এবি জোর দিয়ে বলেন, “অয়েল ট্যাংকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না। স্থানীয় জনগোষ্ঠী বহু বছর ধরে যে বাস্তুতান্ত্রিক অঞ্চল রক্ষায় লড়াই করে যাচ্ছে, তাদের স্বার্থ আমাদের রক্ষা করতেই হবে।”

কোস্টাল ফার্স্ট নেশনস ও হেইল্টসাক ফার্স্ট নেশনের নির্বাচিত প্রধান মেরিলিনও ঘোষণা দেন যে এই অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম উৎপাদনশীল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্র। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকর ও অক্ষত সমুদ্রই আমাদের জীবনধারণের ভিত্তি। আমরা চাই এই জীবনযাপন ভবিষ্যতেও টিকে থাকুক।”

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত বি.সি. ক্যাবিনেট ও বিভিন্ন ফার্স্ট নেশন নেতাদের যৌথ বৈঠকে এবি, পরিবেশমন্ত্রী জর্জ হেইম্যান, স্বদেশজাতি সম্পর্কমন্ত্রী মারে র‍্যাঙ্কিনসহ উপকূলীয় ফার্স্ট নেশন গ্রুপের প্রতিনিধিরা একত্রে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। সভাটিকে পরিবেশ সুরক্ষা, উপকূলীয় অধিকার এবং ফেডারেল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ দাবি করার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button