কানাডায় খাবারের দাম বাড়ছেই

লিয়াকত আলী

এক বছরের বেশি সময় ধরে কানাডার ক্রেতারা যে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি খরচের চাপ অনুভব করছেন, তা এখন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে কানাডার ক্রেতারা যে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি খরচের চাপ অনুভব করছেন, তা এখন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রোসারি পণ্যের মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে একজন ক্রেতাকে গ্রোসারি স্টোরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গড়ে ৪ শতাংশ বেশি খরচ করতে হয়েছে।

যদিও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি একেবারে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে কফি, গরুর মাংস, বাদাম এবং চকোলেট এসব পণ্যের দাম গত এক বছরে রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কফি। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) অনুযায়ী, শুধু এক বছরেই কফির দাম বেড়েছে ২৮.৬ শতাংশ যা CPI-তে অন্তর্ভুক্ত যেকোনো পণ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। আরও আশ্চর্যের বিষয়, রোস্টেড কফির দাম বেড়েছে আরও বেশি সেপ্টেম্বর মাসে তা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি ছিল। বিশ্বব্যাপী কফি উৎপাদন কমে যাওয়া, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দামের দৌড়ের পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে গরুর মাংস। সেপ্টেম্বরে সতেজ ও হিমায়িত গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন। সোমবার লবলজ ও মেট্রোতে এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ২২.০২ ডলারে, আর সবিজ-এ একই পরিমাণ মাংসের দাম ছিল ১৯.৮২ ডলার। এই উচ্চমূল্যের পেছনে যে মূল কারণটি উল্লেখ করা হচ্ছে তা হলো ওয়েস্টার্ন কানাডায় দীর্ঘমেয়াদি খরা, যা গবাদিপশুর সংখ্যা এবং উৎপাদন উভয়ই কমিয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি গোখাদ্যের দামও বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গরুর মাংসের চেয়েও বাদামের বাজারে মূল্যস্ফীতি বেশি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে শুকনো বাদামের দাম বেড়েছে ১০.৯ শতাংশ। কানাডার বাদাম বাজার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ফলন বিশেষ করে কাঠবাদাম ও আখরোটে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। একই সময় পেস্তা ও অন্যান্য বাদামের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধিও কার্যত দাম বাড়িয়েছে।

কনফেকশনারী পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে চকোলেটের দামে। সেপ্টেম্বরে চকোলেটের দাম বেড়েছে ১০.৪ শতাংশ। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানায়, গত দুই বছরে কোকোয়ার দাম প্রায় দ্বিগুণ। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকায় খারাপ আবহাওয়া, কোকোয়া গাছের রোগব্যাধির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এবং বিশ্বজুড়ে চাহিদা বৃদ্ধি। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো বিশ্ব কোকোয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে ওই অঞ্চলের বিপর্যয় সরাসরি বৈশ্বিক বাজার ও কানাডার কনফেকশনারী পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে।

কফি, মাংস, বাদাম বা চকোলেট যে পণ্যই হোক না কেন, সাধারণ ক্রেতাকে এখন পূর্বের তুলনায় আরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাজার গবেষকেরা বলছেন, আগামী মাসগুলোতেও এই চাপ পুরোপুরি কমবে না, কারণ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈশ্বিক অস্থিরতা এখনো সম্পূর্ণ কাটেনি।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই “আর কতদিন?” যদিও এর উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়, তবে একটি বিষয় নিশ্চিত ২০২৫ সাল গ্রোসারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কানাডার মানুষের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বছর হয়ে উঠছে।

Related Articles

Back to top button