
যৌন পরিচয়ের কারণে নিজ দেশে নিপীড়নের ভয়াবহ আশঙ্কায় কানাডায় আশ্রয় প্রার্থনা করা কেনিয়ার নাগরিক চার্লস মুয়াঙ্গি (৪৮) এখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্কটে পড়েছেন। কানাডিয়ান অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আগামী চারদিনের মধ্যে কেনিয়ায় ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুয়াঙ্গি ও তার সমর্থকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তার জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
মুয়াঙ্গি বলেন, “এটি কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়, এটি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। কানাডা যদি আমাকে কেনিয়ায় ফেরত পাঠায়, আমার জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়বে। আমি এখানে বাঁচার আশায় এসেছিলাম।” তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তার জন্য বিমান টিকিট কেনা হয়েছে এবং ২৫ আগস্টের মধ্যে তাকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।
চার্লস মুয়াঙ্গি ২০১৯ সালে কানাডায় আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে তিনি পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার, কুক এবং ক্লিনার হিসেবে কাজ করেছেন—অর্থাৎ সামনের সারিতে থেকে সমাজের সেবা করেছেন। বর্তমানে তিনি টরন্টোর ব্ল্যাক ক্রিক নেবারহুডের জেন অ্যান্ড ফিঞ্চ এলাকায় বসবাস করছেন। মুয়াঙ্গির আশঙ্কা, কেনিয়ায় ফিরে গেলে স্থানীয় কমিউনিটি তাকে যৌন পরিচয়ের কারণে ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার করবে।
মুয়াঙ্গির সহবাসী সুজান কানানজা এনআরবি টিভির এই প্রতিবেদককে বলেন, “বছরের পর বছর আমি তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখেছি। সে তার পরিবারকে কেনিয়ায় সহায়তা করেছে। এখন হঠাৎ করে তাকে দেশ ছাড়তে হবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমি তার কাছে বড় বোনের মতো। আমরা একসঙ্গে কেঁদেছি এবং প্রার্থনা করেছি।”
মুয়াঙ্গি ও তার সমর্থকরা ২১ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। সেখানে তারা দুই হাজার মানুষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি পিটিশন জমা দেন এবং সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠকের দাবিও তুলেন। প্রথমে সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে মুয়াঙ্গির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে, তবে পরে এটি বাতিল হয়ে সময় পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত মুয়াঙ্গি পিটিশন জমা দিতে সক্ষম হন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাও করেন। বৈঠকের পর জানা গেছে, এমপির কার্যালয় অভিবাসন মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে রাজি হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, কেনিয়ার মতো দেশে সমকামী ও বাইসেক্সুয়াল ব্যক্তিদের ওপর নিপীড়ন একটি সাধারণ ঘটনা। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ওই দেশে যৌন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সামাজিক বৈষম্য ও সহিংসতা প্রবল। কানাডা সাধারণত এলজিবিটি+ অধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু এই ঘটনায় সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মুয়াঙ্গি বলেন, “আমরা সবসময় বিশ্বাস করেছি কানাডা এলজিবিটি+ মানুষের জন্য নিরাপদ একটি দেশ। কিন্তু এখানে এসে আমি দেখছি, আমার পরিচয় ব্যাখ্যা করাটাই যেন একটি অপরাধ।” তার সমর্থকরা এখনও আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে হলেও কানাডা সরকার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে এবং তাকে থেকে যাওয়ার অনুমতি দেবে।
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, বরং বৈশ্বিক মানবাধিকার ও অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কানাডার মতো দেশেও কখনও কখনও আইন ও নীতি মানবিক সংবেদনশীলতার সাথে সামঞ্জস্য রাখছে কি না, তা এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে।



