
প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সরকার প্রদেশজুড়ে তদারকির আওতায় থাকা ২৩টি নিরাপদ মাদক সেবন সাইটের মধ্যে ১০টি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফোর্ডের দাবি, এই সাইটগুলো স্কুল, পার্ক ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
সেইন্ট ক্যাথারিনসে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোর্ড বলেন, “নিরাপদ মাদক সেবন সাইট নিয়ে আমি কখনোই বিশ্বাসী ছিলাম না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ এসেছে। তারা জানিয়েছেন, কীভাবে স্কুল, পার্ক ও ডে-কেয়ার সেন্টারের আশেপাশে সুই পড়ে থাকে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাদকাসক্তদের ইনজেকশন নেওয়ার জন্য জায়গা দেওয়া পুরো কমিউনিটির জন্য ক্ষতিকর।”
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত নয়টি কনজাম্পশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সার্ভিসেস (সিটিএস) কেন্দ্র এবং নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত একটি ওভারডোজ প্রতিরোধ সাইট বন্ধের আওতায় আসছে। এর মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রই টরন্টোতে অবস্থিত, বাকি কেন্দ্রগুলো গুয়েল্ফ, হ্যামিল্টন, থান্ডার বে, ওয়াটারলু ও অটোয়াতে রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো বন্ধ হলে স্থানীয় সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব মোকাবিলা করতে বাধ্য হবে।
প্রিমিয়ার ফোর্ড জানিয়েছেন, বন্ধ হওয়া সাইটগুলোর জায়গায় সরকার একটি বৃহৎ বিকল্প কর্মসূচি চালু করবে। তিনি বলেন, “আমরা ১৯টি নতুন হোমলেসনেস অ্যান্ড অ্যাডিকশন রিকভারি ট্রিটমেন্ট (হার্ট) হাব তৈরি করব, যার জন্য ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এই কেন্দ্রগুলো সমন্বিত সেবা প্রদান করবে এবং পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারে জোর দেবে।”
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হার্ট হাবগুলোর মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক অগ্রাধিকার অনুযায়ী মাদকাসক্তি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও গৃহহীনতার মতো জটিল সংকট মোকাবিলা করা। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মাদকাসক্তি নিরাময় ও কাউন্সেলিং, সামাজিক সেবা এবং কর্মসংস্থান সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া শেল্টার, ট্রানজিশনাল বেড, সহায়ক আবাসন, ন্যালোক্সন সরবরাহ, অনসাইট শাওয়ার ও খাবারের মতো মৌলিক সেবাও থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিরাপদ মাদক সেবন সাইট বন্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওভারডোজের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু টরন্টোতেই প্রতিদিন গড়ে তিনজন মানুষের জীবন এই সাইটগুলোর মাধ্যমে বাঁচানো হয়। প্রদেশজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ছয়জন মানুষ ওভারডোজে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা পান এসব কেন্দ্রে। তবে সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদে হার্ট হাবগুলো আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, ফোর্ড সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রদেশজুড়ে মাদকাসক্তি ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যত ধারা নির্ধারণ করবে। একদিকে নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষার যুক্তি রয়েছে, অন্যদিকে জীবনরক্ষাকারী সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাই আগামী বছরগুলোতে এই নীতির বাস্তব প্রভাবই নির্ধারণ করবে, সরকারের পদক্ষেপ জনস্বার্থে কতটা কার্যকর হয়েছে।



