কানাডা–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি

কামরুল ইসলাম

দীর্ঘ টানাপোড়েন ও উত্তেজনার পর অবশেষে কানাডা ও নিউজিল্যান্ড দুগ্ধ খাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া বাণিজ্য বিরোধের সমাধানে পৌঁছেছে।

দীর্ঘ টানাপোড়েন ও উত্তেজনার পর অবশেষে কানাডা ও নিউজিল্যান্ড দুগ্ধ খাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া বাণিজ্য বিরোধের সমাধানে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ এগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ-এর আওতায় কোটা বণ্টন নিয়ে নতুন সমঝোতায় এসেছে উভয়পক্ষ।

কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নীতি বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ছিল। এই নীতির আওতায় কানাডা দুধ, চিজসহ দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও খুচরা বাজারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখে, যাতে স্থানীয় ডেইরি শিল্প সুরক্ষা পায়। কিন্তু নিউজিল্যান্ড অভিযোগ করে, কানাডা CPTPP চুক্তির অধীনে নির্ধারিত শুল্ক-ছাড় সুবিধা বা কোটা সঠিকভাবে প্রয়োগ করছে না। তাদের দাবি, অটোয়া ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে সুবিধা দিতে আন্তর্জাতিক আমদানিকারকদের কোটা ব্যবহারে বাধা দিচ্ছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ড বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক ট্রেড প্যানেলের সামনে তোলে। রায়ে বলা হয়, কানাডার কিছু নীতি চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও বেশ কয়েকটি নিয়ম CPTPP-এর শর্ত ভঙ্গ করছে। এরপরও কানাডা দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় উত্তেজনা বাড়ে এবং নিউজিল্যান্ড পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে উভয় দেশই কোটার কার্যকর বণ্টন নিয়ে নতুন এক কাঠামোতে একমত হয়েছে। কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দার সিধু এবং কৃষিমন্ত্রী হিদ ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, নতুন এই সমঝোতা বিদ্যমান CPTPP কাঠামোর মধ্যেই কার্যকর হবে। কানাডার মূল প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকলেও কোটা ব্যবহারে আগের তুলনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো হবে।

নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বলেছে, সমঝোতার ফলে আমদানিকারকরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে কোটার সুবিধা নিতে পারবে। এতে কানাডার বাজারে নিউজিল্যান্ডের আরও বেশি দুগ্ধজাত পণ্য প্রবেশ করবে।

এটি নিউজিল্যান্ডের আনা প্রথম আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য বিরোধ যা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা শুধু কানাডা–নিউজিল্যান্ড সম্পর্ককেই স্থিতিশীল করবে না, বরং বৃহত্তর CPTPP কাঠামোকেও শক্তিশালী করবে।

কানাডার জন্য ডেইরি খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এটি তাদের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ রপ্তানিকারক দেশ, যারা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পেতে আগ্রহী। ফলে দুই দেশের স্বার্থের টানাপোড়েন এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে আপসের পথে এগোল।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কানাডার ভোক্তাদের ওপরও। কোটা বণ্টন কার্যকর হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, সরবরাহ বাড়বে এবং দামের ওপর চাপ কমবে। অর্থাৎ, দুধ, চিজসহ নানা দুগ্ধজাত পণ্যের প্রাপ্যতা ও দাম ভোক্তাদের অনুকূলে যাবে।

এই ঘটনা দেখিয়ে দিলো যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিরোধ যত জটিলই হোক, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের সমঝোতা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্য আলোচনার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এক কথায়, এই সমঝোতা শুধু দুদেশের অর্থনীতিকে স্বস্তি দেয়নি, বরং বিশ্ব বাণিজ্যে স্থিতিশীলতার এক নতুন বার্তাও দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button