ইয়র্ক রিজিয়নে কারজ্যাকিং দ্বিগুণ, সহিংস অপরাধে বাড়ছে আতঙ্ক

মাহবুবুল আলম

ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬৪টি কারজ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৬ শতাংশ বৃদ্ধি

অন্টারিওর ইয়র্ক রিজিয়নে চলতি বছরে কারজ্যাকিংয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬৪টি কারজ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৬ শতাংশ বৃদ্ধি। এই প্রবণতা শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকে নয়, স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিও তীব্র করছে।

ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশের প্রধান জিম ম্যাকসুয়েন জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের ব্যবধানে কারজ্যাকিংয়ের হার প্রায় ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে এটি শুধু অপরাধ নয়, বরং ভয়ের স্থায়ী উৎসে পরিণত হয়েছে।” তার কথায়, এই অঞ্চলে সহিংসতার আরেকটি মাত্রা হলো গুলির ঘটনা, যা চলতি বছর ৯২ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত ইয়র্কে গুলির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬টি। অধিকাংশ ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে অবৈধ হ্যান্ডগান, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার করা হচ্ছে।

পুলিশ প্রধান আরও জানিয়েছেন, এই সশস্ত্র সহিংসতার মূল পেছনে রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র। এই চক্রগুলো গাড়ি চুরি, মাদক পাচার এবং টাও ট্রাক শিল্পের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে লিপ্ত। বিশেষ করে টাও ট্রাক খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানোর জন্য তারা অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ ও হামলার মতো সহিংস কার্যক্রম চালাচ্ছে। ম্যাকসুয়েন বলেন, “সংঘবদ্ধ অপরাধীরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা পুরো কমিউনিটির জন্য মারাত্মক হুমকি।”

কারজ্যাকিং এবং সশস্ত্র সহিংসতা নিয়ন্ত্রণই এ বছরের বাকি সময় এবং আগামী বছরের জন্য ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, আগামী মাসে দুটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১. বিশেষ কারজ্যাকিং টাস্কফোর্স গঠন: এই টাস্কফোর্স সরাসরি কারজ্যাকিং মোকাবিলায় কাজ করবে। এবং ২. জনসচেতনতামূলক প্রচারণা: স্থানীয় জনগণকে শেখানো হবে কীভাবে তারা তাদের যানবাহন চুরি বা ছিনতাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে ইয়র্ক রিজিয়নের কারজ্যাকিং কেবল স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি পুরো গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার অপরাধ পরিস্থিতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টরন্টো ও আশপাশের অঞ্চলে গত তিন বছরে গাড়ি চুরি এবং কারজ্যাকিংয়ের ঘটনা অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। গাড়িগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার হওয়ায় অপরাধ চক্রগুলো এতে যুক্ত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এই ধরনের অপরাধ রোধে সীমান্তে অস্ত্র ও গাড়ি পাচার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, কমিউনিটির সহযোগিতা এবং পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স কার্যক্রম অপরিহার্য। অন্যথায়, আগামী বছরগুলোতে ইয়র্ক রিজিয়ন ও আশপাশের এলাকায় কারজ্যাকিং আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Related Articles

Back to top button