তরুণ কানাডিয়ানদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে ব্যর্থতার হার সবচেয়ে বেশি

কামরুল ইসলাম

ইকুইফ্যাক্স কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থতার হার সবচেয়ে বেশি তরুণদের মধ্যে

কানাডার তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই অর্থনৈতিক চাপে পতিত হচ্ছে। ইকুইফ্যাক্স কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থতার হার সবচেয়ে বেশি তরুণদের মধ্যে। বিশেষত ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১৭ জন কানাডিয়ানের একজনই সময়মতো ক্রেডিট কার্ডের বিল শোধ করতে পারেননি। যেখানে সার্বিকভাবে পুরো দেশের জন্য এ হার দাঁড়িয়েছে প্রতি ২৩ জনে একজন।

ইকুইফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ক্রেডিট কার্ড নয়, গাড়ি ঋণ এবং ‘লাইন অব ক্রেডিট’ পরিশোধেও তরুণরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে ব্যর্থতার হার ছিল ১.৯৯ শতাংশ। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, তরুণ প্রজন্ম কেবল ঋণের বোঝার কারণে নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের চাপের কারণে দিনযাপন করতে গিয়ে আরও আর্থিক দুর্বলতায় পড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার ভোক্তা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪.২ শতাংশ বেশি। এই ঋণভার বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে ক্রমশ ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

ইকুইফ্যাক্স কানাডার অ্যাডভান্সড অ্যানালাইটিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা ওকস বলেন, “মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে এবং সুদের হার কমতে শুরু করেছে এগুলো ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক খবর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে এসব ইতিবাচক প্রভাব অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষের আর্থিক চাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে।”

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ উপাত্তে দেখা গেছে, কানাডার বেকারত্বের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জুলাইয়ে পৌঁছেছে ৬.৪ শতাংশে। উচ্চ সুদের হার এবং মন্দার আশঙ্কা অর্থনীতিকে শ্লথ করে তুলেছে। এর ফলে তরুণদের চাকরির সুযোগ সীমিত হচ্ছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে এবং অনেককে আবার পরিবারে ফিরে যেতে হচ্ছে।

রেবেকা ওকস আরও বলেন, “আমরা দেখছি যে তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘ সময় ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ এমনকি দাদা-দাদী বা নানা-নানীর সঙ্গেও থাকতে শুরু করেছে। এটি তাদের স্বাধীন জীবনযাপন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

টরন্টো ইয়ুথ লাইনের কো-অর্ডিনেটর আরশাদ হান এনআরবি টিভিকে বলেন, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য ভোক্তা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার তরুণদের মধ্যে যেভাবে বাড়ছে, তা ভবিষ্যতে কানাডার আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। তারা বলছেন, বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধিই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। নাহলে ব্যক্তিগত ঋণ সঙ্কট আরও গভীর আকার ধারণ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই প্রবণতা চলতে থাকলে কানাডার যুবকরা ঋণ-পিছনে জড়িয়ে পড়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে না। এ পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত জীবনে নয়, দেশের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Related Articles

Back to top button