কনজার্ভেটিভ এমপির পদত্যাগ

কামরুল ইসলাম

কানাডায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে নোভা স্কশিয়ার এমপি ক্রিস ডি’এন্ট্রেমন্টের দলবদলকে কেন্দ্র করে।

কানাডায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে নোভা স্কশিয়ার এমপি ক্রিস ডি’এন্ট্রেমন্টের দলবদলকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার তিনি হঠাৎ করেই কনজার্ভেটিভ পার্টির ককাস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং এরপরই যোগ দেন লিবারেল পার্টিতে। তাঁর এই পদক্ষেপ চলমান সংসদীয় সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লিবারেল পার্টির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দীর্ঘ বিবেচনা, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করেই কনজার্ভেটিভ ককাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডি’এন্ট্রেমন্ট। তিনি জানিয়েছেন, “আমি বুঝতে পেরেছি, আমার দেশের উন্নতির জন্য এটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ। অ্যাকাডি-অ্যানাপোলিসের স্বার্থও এতে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত হবে।”

গত বসন্তে অনুষ্ঠিত ফেডারেল নির্বাচনে নোভা স্কশিয়ার গ্রামীণ রাইডিং অ্যাকাডি-অ্যানাপোলিস থেকে মাত্র ১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে লিবারেল প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন ডি’এন্ট্রেমন্ট। ফলে তাঁর এই দলত্যাগে স্থানীয় রাজনীতিতেও চমক তৈরি হয়েছে।

ডি’এন্ট্রেমন্ট অভিযোগ তুলেছেন, বর্তমান কনজার্ভেটিভ নেতৃত্বের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেশের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার মতো নয়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন বাজেটই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কমিউনিটি অবকাঠামো ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি এই বাজেটে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ কারণেই সরকারি দলের ককাসে যোগ দেওয়াই শ্রেয় মনে করেছি।”

হাউস অব কমন্সে ২০১৯ সালে নির্বাচিত হওয়ার আগে ডি’এন্ট্রেমন্ট ছিলেন নোভা স্কশিয়ার প্রাদেশিক রাজনীতির পরিচিত মুখ। দলবদলের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “কানাডার প্রয়োজন অভিযোগ তোলা নেতাদের নয়, বরং এমন নেতৃত্ব যারা ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।”

ডি’এন্ট্রেমন্টের ফ্লোর-ক্রসিংয়ের ফলে হাউস অব কমন্সে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০-এ, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৭২ আসনের মাত্র দুইটি কম। এর ফলে সংখ্যালঘু লিবারেল সরকার এখন বাজেটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে আরও অনুকূল অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

ডি’এন্ট্রেমন্টের দলবদলের সরাসরি অর্থ হলো বাজেট বা গুরুত্বপূর্ণ বিল আটকে দিতে চাইলে বিরোধীদের এখন আরও কিছু ভোট একত্রিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ লিবারেলদের হাতে বাজেট পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের ক্ষেত্রে নতুন এক সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

Related Articles

Back to top button