ডিসেম্বরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ১৩০ কোটি ডলার

মাসুদ করিম

কানাডার ফাইন্যান্স মিরিস্টার ফ্রাঙ্কো ফিলিপস শ্যাম্পেইন

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কানাডার পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১৩০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা। আগের মাস নভেম্বরে সংশোধিত ঘাটতি ছিল ২৬০ কোটি ডলার; প্রাথমিকভাবে যা ২২০ কোটি ডলার বলা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে ঘাটতির এ হ্রাস মূলত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আমদানি বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ফল।

ডিসেম্বরে কানাডার মোট রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যার ফলে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। এ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে মেটাল ও নন-মেটালিক খনিজ পণ্য থেকে। বিশেষ করে আনরোট (অপরিশোধিত) স্বর্ণ, রূপা, প্লাটিনাম গ্রুপের ধাতু ও সংশ্লিষ্ট মিশ্র ধাতুর রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা ও দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এই খাতে প্রবৃদ্ধি রপ্তানি আয়ের বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

তবে এই খাত বাদ দিলে চিত্র ভিন্ন। মেটাল ও নন-মেটালিক খনিজ পণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করলে ডিসেম্বরে রপ্তানি ০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের অবদানই ছিল প্রধান।

ডিসেম্বরে মোট আমদানি বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যার ফলে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার। এই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে মোটরগাড়ি ও যন্ত্রাংশ খাত থেকে এ খাতে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। পরিমাণের হিসাবে (ভলিউম টার্মে) পণ্য আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ইঙ্গিত দেয় অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। রপ্তানি যেখানে তুলনামূলক দ্রুত বেড়েছে, সেখানে আমদানি বৃদ্ধির হার কম থাকায় মাসিক বাণিজ্য ঘাটতি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ছিল ৫৭০ কোটি ডলার। নভেম্বরে যা ছিল ৬৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত কমেছে ৮০ কোটি ডলার। মাসটিতে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ, কিন্তু আমদানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশে কানাডার রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ যা রেকর্ড বৃদ্ধির পর্যায়ে পড়েছে। একই সময়ে ওই দেশগুলো থেকে আমদানি কমেছে ৩ শতাংশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-বহির্ভূত বাণিজ্যে ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটি ডলার, যেখানে নভেম্বরে এই ঘাটতি ছিল ৯০০ কোটি ডলার। এ থেকে বোঝা যায়, কানাডা ধীরে ধীরে রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণের পথে এগোচ্ছে এবং বিকল্প বাজারে অবস্থান শক্ত করছে।

পুরো ২০২৫ সালে কানাডার মোট বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৩০ কোটি ডলার, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। বছরজুড়ে রপ্তানি কমেছে ০ দশমিক ২ শতাংশ, বিপরীতে আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ ফলে সামগ্রিক ঘাটতি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৫ সালে কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৮ হাজার ১৬০ কোটি ডলার। তবে ২০২৪ সালে এই উদ্বৃত্ত ছিল ১০ হাজার ১৩০ কোটি ডলার অর্থাৎ এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বছরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আমদানি কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ডিসেম্বর মাসে ঘাটতি অর্ধেকে নেমে আসা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত। বিশেষ করে ধাতু ও খনিজ খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স স্বল্পমেয়াদে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করেছে। তবে বার্ষিক পরিসংখ্যান বলছে, কানাডা এখনো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে রপ্তানি স্থবিরতা ও আমদানি বৃদ্ধির চাপ ঘাটতি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ভারসাম্য টেকসই রাখতে হলে রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করা, উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন বাজারে প্রবেশ আরও জোরদার করা জরুরি হবে।

Masud Karim : Local Journalism Initiative Reporter

Related Articles

Back to top button