সাপোর্ট ওয়ার্কারদের কর্মবিরতিতে উদ্বিগ্ন জিটিএর পরিবারগুলো

আনাস মোহাম্মদ

গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ)-তে বিভিন্ন গ্রুপ হোমে বসবাসকারী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ)-তে বিভিন্ন গ্রুপ হোমে বসবাসকারী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সপ্তাহের শুরুতে সেন্ট্রাল ওয়েস্ট স্পেশালাইজড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস–এর সাপোর্ট ওয়ার্কাররা কর্মবিরতিতে যাওয়ার পর থেকে তারা প্রিয়জনদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ হোম কর্তৃপক্ষ ধর্মঘটকালীন পরিস্থিতি এবং তাদের প্রিয়জনদের কার্যকর পরিচর্যা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিচ্ছে না।

অন্টারিও পাবলিক সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন লোকাল ২৪৯–এর অধীনস্থ সাপোর্ট ওয়ার্কাররা বুধবার সন্ধ্যা থেকেই কাজে বিরতি দিয়েছেন। অন্টারিও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে কালেক্টিভ বার্গেনিং আবেদন করার ৪০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

ধর্মঘট শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই হোম কর্তৃপক্ষ তৃতীয় পক্ষের কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করেছে। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধর্মঘট চলাকালে গ্রুপ হোমের বাসিন্দাদের সেবা প্রদান। তবে পরিবারের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ নিয়োগ পাওয়া নতুন কর্মীরা নিয়মিত সাপোর্ট ওয়ার্কারদের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সমতুল্য সেবা দিতে পারবেন কি না।

লোকালটির প্রেসিডেন্ট জুলি গেইজ জানান, ইউনিয়ন সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মজুরি কম থাকা, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত কর্মপরিবেশ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। নতুন চুক্তিতে এসব মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় কর্মবিরতি ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।

গেইজ আরও জানান, নিয়োগদাতার দেওয়া দুই দফা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সদস্যরা একযোগে ভোট দিয়েছেন।, প্রস্তাবে পরিবর্তন ছিল সামান্য এবং তা কর্মীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান দেয়নি। বরং কর্মীরা মনে করেছেন, চুক্তিতে সই করাতে নিয়োগদাতা ভয় দেখানো ও চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে।

সিডব্লিউএসডিএস-এর প্রধান ভবনে থাকা বাসিন্দা রাবিয়া কাদের বলেন, তার ভাই শাহ খানের সেবার মান নিয়ে তিনি স্পষ্ট তথ্য চাইলে ব্যবস্থাপনা কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। তিনি জানান, “যে কর্মীরা আমার ভাইকে বছরের পর বছর ধরে চেনেন, তাদের হঠাৎ অনুপস্থিতিতে কীভাবে একই মানের যত্ন নিশ্চিত হবে এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারছে না। নতুন কর্মীরা মোটেই প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না।”

পরিবারের উদ্বেগ নতুন নয়। গত মাসেও সিডব্লিউএসডিএস হোমগুলোতে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়, যখন প্রতিষ্ঠানটি বার্লিংটন, হ্যাল্টন হিলস, মিসিসাগা এবং ওকভিল-এর বিভিন্ন লোকেশন থেকে বাসিন্দাদের কোম্পানির বন্ড স্ট্রিট, ওকভিল-এর প্রধান ফ্যাসিলিটিতে স্থানান্তর করে।

অভিযোগ পরিবারগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, তাদের সম্মতি নেওয়া হয়নি, এমনকি স্থানান্তরের কারণও বিস্তারিত জানানো হয়নি এতে অনেক পরিবারই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কেউ কেউ মনে করেন, প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না।

সিডব্লিউএসডিএস–এর অধীনস্থ গ্রুপ হোমগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সহায়ক কর্মীর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসিন্দাদের অনেকে শারীরিক, মানসিক বা স্নায়বিক জটিলতায় ভুগছেন, যাদের জন্য প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফ অপরিহার্য। কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে সেবার মান আরও সংকটে পড়তে পারে, নতুন কর্মীরা বাসিন্দাদের পরিচিত নন, ফলে ভুল চিকিৎসা বা আচরণগত ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়ে এবং পরিবারগুলো তথ্য না পাওয়ায় আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

সাপোর্ট ওয়ার্কারদের ন্যায্য দাবি এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দুই পক্ষই এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বচ্ছতার অভাব এবং যথাযথ যোগাযোগ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাসিন্দারা ও তাদের পরিবার। ধর্মঘট সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে জিটিএ–র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য তৈরি এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Related Articles

Back to top button