তাপের ব্যবস্থা নেই টরন্টোর বহু ভবনে

কামরুল ইসলাম

টরন্টোতে শীত জেঁকে বসার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা।

টরন্টোতে শীত জেঁকে বসার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা। বাইরে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে গেলেও শহরের কিছু বাড়িতে এখনো কার্যকর গরমের ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের ভেতরেই কনকনে ঠান্ডায় দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

শহরের ২২৫৫ ওয়েস্টন রোডের একটি আবাসিক ভবনে রোববার থেকে গরমের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ফলে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারগুলো। ওই ভবনের বাসিন্দা তৌফিক ইলমি জানান, একটি স্পেস হিটার থাকলেও তা দিয়ে পুরো বাসা গরম রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে তার ছেলের শয়নকক্ষে তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাত্র ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

কামরুল ইসলামসাক্ষাৎকারে ইলমি বলেন, “গতকাল মধ্যরাতে আমার ছেলে কাঁদছিল। সে প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাঁপছিল। তাকে উষ্ণ রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে তাকে আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝখানে নিয়ে শুইয়েছি।” তিনি বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে নিজের সন্তানের এমন কষ্ট দেখা মানসিকভাবে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক।

ইলমির সাত বছর বয়সী ছেলে মাহাদ জানায়, ঠান্ডায় সে এতটাই কাঁপছিল যে উষ্ণ থাকার জন্য তাকে একসঙ্গে দুটি কম্বল নিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়ির ভেতরেই শীতের কোট ও হ্যাট পরে থাকতে হয়েছে তাকে। মাহাদের ভাষায়, “এটা খুবই বাজে পরিস্থিতি। আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”

পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকেন বলে জানান ইলমি। কাজের প্রয়োজনে বাইরে গেলে তার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। তিনি বলেন, “যখন আপনার সন্তান বা বাবা–মা কষ্টে থাকে, অথচ আপনি নিয়মিত ভাড়া ও বিল পরিশোধ করছেন, তখন মনে হয় আপনি যেন সেই কষ্টটাই কিনে আনছেন।”

নিয়ম অনুযায়ী, টরন্টো সিটির বাইল অনুযায়ী অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত বাড়িমালিকদের ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সিটির বাইল প্রয়োগকারী সংস্থা হস্তক্ষেপ করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সিটিনিউজ সংশ্লিষ্ট বাড়ি ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভবনের সুপারভাইজারও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কিছু বাসিন্দাকে সাময়িক সমাধান হিসেবে স্পেস হিটার দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানেও দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা। বাসিন্দারা জানান, স্পেস হিটার চালু করলেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একজন বাসিন্দা বলেন, “হিটার চালু করার সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কখনো বিদ্যুৎ এলেও কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আবার চলে যায়।”

আরেক বাসিন্দা ফ্রিম্যান ব্যারি বলেন, “এই ধরনের ঠান্ডার মধ্যে ঘরের ভেতর বাস করা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। এর চেয়ে বাইরে থাকা ভালো মনে হয়।”

এদিকে শীত আরও তীব্র হওয়ার পূর্বাভাস থাকায় দ্রুত গরমের ব্যবস্থা চালু না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তারা সিটি কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং বাড়িমালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করছেন, যাতে শীতের এই দুর্ভোগ থেকে অন্তত শিশু ও বয়স্করা রক্ষা পান।

Related Articles

Back to top button