
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফ্রেডেরিক্টন পাবলিক লাইব্রেরি এ বছর এক অনন্য ইতিহাস গড়েছে। শিশু পাঠক কোকো ও রবিন গ্যাথারকোল এই লাইব্রেরির নিয়মিত মুখ। সারা বছর জুড়েই তারা এখানে সময় কাটায়, বই পড়ে, গল্প শোনে এবং নানা শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেয়। কিন্তু এই গ্রীষ্মে তাদের উপস্থিতি এবং আগ্রহ যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে কারণ লাইব্রেরির গ্রীষ্মকালীন পাঠ কর্মসূচিতে এ বছর উপস্থিতির সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে এক হাজারে।
লাইব্রেরির সহকারী লোরালি বয়েল জানিয়েছেন, সাধারণত প্রতি বছর ‘সামার রিডিং ক্লাব’-এ ৪০০ থেকে ৬০০ জন শিশু অংশ নেয়। কিন্তু ২০২৫ সালের এই গ্রীষ্মে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজারে যা লাইব্রেরির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
বয়েলের মতে, “আমরা জানতাম, সম্প্রদায়ের শিশু ও পরিবারগুলো পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে আগ্রহী, তবে এ বছর যেভাবে সাড়া পেয়েছি, তা সত্যিই অভাবনীয়। প্রতিদিনই লাইব্রেরিতে এমন ভিড় হচ্ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।”
কোকো ও রবিনের মা, আাইমি গোভিন জানান, এই সাফল্য কেবল একটি পরিসংখ্যান নয় এটি লাইব্রেরির নিরলস প্রচেষ্টার ফল। তার ভাষায়, “লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ যেভাবে শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় কার্যক্রম তৈরি করেছে, সেটাই এই সাফল্যের মূল কারণ। এখানে আসা মানে এখন আর শুধু বই পড়া নয়; এটা আমাদের পরিবারের প্রতিদিনের আনন্দের জায়গা।”
এই গ্রীষ্মে লাইব্রেরি শুধু গল্পপাঠ বা বই ধার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আয়োজন করা হয়েছিল ‘স্টোরি টাইম’, ‘ক্র্যাফটারনুন’ এবং জনপ্রিয় ‘স্টার ওয়ারস থিমের জেডাই প্রশিক্ষণ সেশন’। শিশুদের কল্পনাশক্তিকে জাগিয়ে তোলা এবং শেখাকে মজার অভিজ্ঞতায় পরিণত করার এমন উদ্যোগ আগে দেখা যায়নি।
এছাড়াও স্থানীয় শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয়েছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছোটদের লেখালেখি কর্মশালা, এবং বিজ্ঞানভিত্তিক খেলাধুলার সেশন যা পুরো পরিবারকেই লাইব্রেরির প্রতি আকৃষ্ট করেছে।
আইমি গোভিন বলেন, “এখন লাইব্রেরি এমন এক জায়গা হয়ে উঠেছে, যেখানে সবাই যেতে চায়। এখানে আসলে আমরা শুধু বই ধার নিই না, আমরা একে অপরের সঙ্গে শিখি, সময় কাটাই, এবং নিজেদের গল্প ভাগ করে নেই। এই পরিবেশটাই শিশুদের মধ্যে শেখার আগ্রহ তৈরি করেছে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বইপ্রীতি ও সামাজিক সংযোগ উভয়ই বৃদ্ধি করছে। এক অভিভাবক মন্তব্য করেন, “ডিজিটাল যুগে যেখানে শিশুরা পর্দায় ডুবে থাকে, সেখানে লাইব্রেরি আবার তাদের বাস্তব বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনছে এটা এক বড় পরিবর্তন।”
ফ্রেডেরিক্টন পাবলিক লাইব্রেরি এখন আর শুধু বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, বরং এটি এক সম্প্রদায়ের শেখা ও বেড়ে ওঠার কেন্দ্র। কোকো ও রবিনের মতো শিশুদের উপস্থিতি ও আগ্রহই যেন প্রমাণ করে, পাঠাভ্যাস এখনো জীবন্ত শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও আকর্ষণীয় পরিবেশ।
এভাবেই এক গ্রীষ্মের পাঠ কর্মসূচি তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস এবং সম্ভবত এক নতুন প্রজন্মের পাঠপ্রেমের গল্পও শুরু হয়ে গেছে এখানেই।



