ব্যবসায় ফিরল টরন্টোর আইল্যান্ড ক্যাফে

জামির হোসেন

ক্যাফের সহ-মালিক জোহরা ফ্রিম্যান-ম্যাকইনটায়ার বলেন, “সেই রাতটা এখনও ভুলতে পারি না। আমরা সবাই অসহায় হয়ে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমাদের ইতিহাস, স্মৃতি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার মাসেরও বেশি সময় পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে টরন্টোর জনপ্রিয় “আইল্যান্ড ক্যাফে”। মার্চ মাসে ওয়ার্ড’স আইল্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের ক্লাবহাউস ভবনে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিয়েছিল আইল্যান্ড কমিউনিটির প্রিয় এই স্থানটিকে। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আজ আবারও নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে ক্যাফের অস্থায়ী কার্যক্রম।

গত মার্চে মধ্যরাতে লাগা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্লাবহাউস ভবনে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব কিছু ভস্মীভূত হয়। বহু বছর ধরে আইল্যান্ডবাসী ও পর্যটকদের কাছে এই ভবনটি শুধু খাবার বা পানীয়ের জায়গা নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র ছিল। আগুনের ঘটনায় পুরো কমিউনিটি যেন নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ক্যাফের সহ-মালিক জোহরা ফ্রিম্যান-ম্যাকইনটায়ার বলেন, “সেই রাতটা এখনও ভুলতে পারি না। আমরা সবাই অসহায় হয়ে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমাদের ইতিহাস, স্মৃতি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল।”

অগ্নিকাণ্ডের পরের দিনই টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ক্যাফের মালিক ও আইল্যান্ডবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মেয়র জানান, ভবনটি পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত যেন অস্থায়ীভাবে ব্যবসা চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে সিটি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

জোহরা স্মৃতিচারণ করে এনআরবি টিভিকে বলেন, “মেয়র নিজে এসে আমাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। তখনই আলোচনা হয়েছিল একটি অস্থায়ী কিয়স্ক খোলার বিষয়ে। সেই উদ্যোগই আমাদের আবার দাঁড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”

পরবর্তীতে টরন্টো সিটি প্রশাসন ক্লাবহাউসের সামনের খোলা জায়গাটি ক্যাফে মালিকদের অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। সেখানে তৈরি করা হয় দুটি ছোট কিয়স্ক যেখান থেকে সীমিত পরিসরে খাবার ও পানীয় বিক্রি শুরু হয়।

একটি কিয়স্কে পাওয়া যাচ্ছে কফি, বেকড আইটেম, সালাদ ও র‌্যাপ। অপর কিয়স্কে পরিবেশন করা হচ্ছে আইসক্রিম, স্যান্ডউইচ ও পপসিকল। জোহরা জানান, “এখন আমরা ধীরে ধীরে মেন্যু সম্প্রসারণ করছি। লক্ষ্য হলো আগের সেই উষ্ণ, প্রাণবন্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।”

আগস্টের লম্বা সপ্তাহান্তের পর এই অস্থায়ী ক্যাফে চালু হয়, এবং শুরুতেই এটি আইল্যান্ডবাসীদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া পায়। স্থানীয়দের অনেকে বলেছেন, “আইল্যান্ড ক্যাফে ফিরে আসায় মনে হচ্ছে, আমাদের হৃদয়ের একটা অংশ ফিরে এসেছে।”

এই ক্যাফে শুধু খাবার পরিবেশনের জায়গা নয় এটি ছিল গানের আসর, শিল্প প্রদর্শনী, আলোচনাচক্র ও বন্ধুত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এর পুনরায় চালু হওয়া মানে ছিল টরন্টোর আইল্যান্ড কমিউনিটির সাংস্কৃতিক প্রাণের পুনর্জাগরণ।

ক্যাফে মালিকরা জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত অস্থায়ী এই কিয়স্কগুলো চালু থাকবে। এরপর শীতকালীন বিরতিতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। আগামী বছর ক্লাবহাউস ভবন পুনর্নির্মিত হলে আবারও পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরে আসবে আইল্যান্ড ক্যাফে।

আইল্যান্ড ক্যাফের এই পুনর্জন্ম শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পুনরারম্ভ নয় এটি টরন্টোর আইল্যান্ড কমিউনিটির ঐক্য, দৃঢ়তা ও আশা-ভরসার প্রতীক। আগুনের কালো ছায়া এখনও রয়েছে, কিন্তু তার মাঝেই মানুষ একে অপরের হাত ধরে, নতুন রঙে, নতুন প্রাণে ফিরিয়ে এনেছে তাদের প্রিয় ক্যাফেকে।

“আগুন আমাদের ভেঙে দিতে পারেনি,” বলেন জোহরা ফ্রিম্যান-ম্যাকইনটায়ার। “বরং সেটিই আমাদের একত্র করেছে, শিখিয়েছে ভালোবাসা ও কমিউনিটির শক্তি আগুনের চেয়েও বেশি জ্বলে।”

Related Articles

Back to top button