কানাডাজুড়ে বোমা হামলার হুমকি, টানা দ্বিতীয় দিন আরসিএমপির পদক্ষেপ

জুমু চৌধুরী

কানাডাজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় টানা দ্বিতীয় দিনও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)।

কানাডাজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় টানা দ্বিতীয় দিনও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় আরসিএমপি জানায়, দেশের একাধিক সিনাগগ, যাদুঘর এবং বাণিজ্যিক মার্কেট লক্ষ্য করে নতুন হুমকি এসেছে। তবে পুলিশি তৎপরতার কারণে এসব হুমকি দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

আরসিএমপি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, জনসাধারণ আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রথম হুমকির সময়ে ইহুদি উপাসনালয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। টরন্টো পুলিশকে সেইদিন ব্যাথার্স্ট স্ট্রিট ও শেপার্ড এভিনিউ ওয়েস্ট এলাকায় বিভিন্ন ভবনে উপস্থিত হতে হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে ওই ভবনগুলো খালি করা হয় এবং তল্লাশি শেষে সেগুলো নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। পরদিন টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, নতুন কোনো হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই।

তবে ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশ (ওয়াইআরপি) জানিয়েছে, তিনটি নতুন হুমকি ইমেইলের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। যদিও বার্তাগুলোতে কোনো সুনির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ ছিল না, পুলিশ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তদন্ত করেছে এবং জননিরাপত্তার জন্য কোনো সরাসরি হুমকি নেই বলে ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াইআরপি আরও জানিয়েছে, সব ইমেইল একই ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছে এবং হুমকির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও এবার কোনো উপাসনালয়কে সরাসরি লক্ষ্য করা হয়নি, নিরাপত্তা স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অটোয়া পুলিশও এই দুই দিনের ধারাবাহিক হুমকির পর সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সাসেক্স ড্রাইভের ৩০০ ব্লকে তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে, প্রথম হুমকি সকালে এসেছে, যেখানে অটোয়া অঞ্চলের কয়েকটি সিনাগগ ও হাসপাতালকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পরপর দুই দিন ধরে একই ধরনের হুমকি আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইহুদি সংগঠনগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন হুমকির ঘটনা তাদের আতঙ্কিত করছে। তবে কানাডার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই। তদন্তকারীরা সাইবার ট্র্যাকিং এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে হুমকিদাতাদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সাইবার বিশেষজ্ঞ মেলানি হারপার এনআরবি টিভিকে বলেন, একই ধরনের বার্তা পুনরায় প্রেরণ হওয়া এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি ইঙ্গিত দেয় যে এটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি মূলত সাইবার-ভিত্তিক আতঙ্ক সৃষ্টির প্রয়াস, যার উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ায় তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সূচনা করেছে যে, ঘৃণাজনিত অপরাধ ও সন্ত্রাসী হুমকি প্রতিরোধে শুধুমাত্র পুলিশ নয়, কমিউনিটি পর্যায়েও শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণও জরুরি। কানাডার বৈচিত্র্যময় সমাজে এমন হুমকি কেবল জননিরাপত্তার জন্য নয়, সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button