অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করেছে অন্টারিওর কিছু গ্রোসার

মুসা বিশ্বাস

অন্টারিওজুড়ে “দি বিয়ার স্টোর” বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর খালি বোতল ও ক্যান সংগ্রহের দায়িত্ব এখন পড়েছে স্থানীয় গ্রোসারি দোকানগুলোর কাঁধে।

অন্টারিওজুড়ে “দি বিয়ার স্টোর” বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর খালি বোতল ও ক্যান সংগ্রহের দায়িত্ব এখন পড়েছে স্থানীয় গ্রোসারি দোকানগুলোর কাঁধে। কিন্তু অনেক স্বাধীন গ্রোসারই এই নতুন দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। তাদের দাবি, সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়িক ও খাদ্য নিরাপত্তা দুই দিক থেকেই তারা ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

অন্টারিও সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে “অন্টারিও ডিপোজিট রিটার্ন প্রোগ্রাম” (ODRP)-এর আওতায় স্বাধীন গ্রোসারদের খালি বোতল ও ক্যান সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ, যারা দোকানে বিয়ার বা ওয়াইন বিক্রি করেন, তাদেরকেই গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যবহৃত বোতল ও ক্যান ফিরিয়ে নিতে হবে।

কিন্তু কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসারসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস এই সময়সীমাকে ‘অবাস্তব’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, “১ জানুয়ারি তারিখটি সরকারের জন্য ভালো হতে পারে, কিন্তু গ্রোসারদের জন্য নয়। আমরা এখনো প্রস্তুত নই।” স্যান্ডসের দাবি, ইতিমধ্যেই অনেক ছোট গ্রোসারি ব্যবসায়ী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে জানিয়েছে, তারা বরং মদ বিক্রির লাইসেন্স ফেরত দিতে রাজি, কিন্তু এই বাড়তি কাজ করতে নয়।

গ্রোসারদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি। দোকানে যেখানে খাবারপত্র বিক্রি হয়, সেখানে ব্যবহৃত বিয়ার বোতল ও ক্যান জমা রাখা এবং পরিষ্কার করা এই প্রক্রিয়া গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

তাছাড়া দোকানে জায়গার সীমাবদ্ধতা, এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্যান্ডস বলেন, “আমাদের অনেক সদস্য এই কারণে এখনো লাইসেন্সের জন্য আবেদনই করেননি। আবার কেউ কেউ আবেদন করেছেন, কিন্তু পরে এই রিসাইক্লিংয়ের শর্ত জেনে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।”

এই নীতির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ডেভিড লা মানশিয়া, যিনি দশকের পর দশক ধরে তার পরিবারসহ পরিচালনা করছেন “লা মানশিয়ার কান্ট্রি মার্কেট ফ্রেশ”। তিনি বলেন, “যখন প্রথম গ্রোসারি স্টোরে বিয়ার ও ওয়াইন বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়, আমরা সেটা গ্রহণ করেছিলাম ক্রেতা টানার জন্য। লাভ খুব বেশি ছিল না। কিন্তু এখন যদি খালি বোতল ও ক্যান গ্রহণ, পরিস্কার ও সংরক্ষণ করতে হয়, তাহলে সেটা আমাদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”

লা মানশিয়ার মতে, গ্রোসারি দোকানের প্রধান কাজ হচ্ছে খাদ্য বিক্রি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ নয়। এমন নীতি ছোট ব্যবসাগুলিকে নিরুৎসাহিত করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্টারিও সরকারের উদ্দেশ্য হয়তো ছিল পরিবেশবান্ধব ও টেকসই রিসাইক্লিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, স্বাধীন গ্রোসারদের জন্য এটি একরকম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ও জায়গার সংকট, অন্যদিকে শ্রম ব্যয় ও বাড়তি দায়িত্ব। সব মিলিয়ে অনেকেই ভাবছেন, এই নীতি মেনে চলার চেয়ে লাইসেন্স ফেরত দেওয়াই সহজ সমাধান।

যদি সরকার সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে, তবে হয়তো গ্রোসাররা এই নতুন ব্যবস্থায় অংশ নিতে আগ্রহী হবেন। না হলে, অন্টারিওর ছোট গ্রোসারি ব্যবসাগুলোর সামনে নতুন বছর শুরু হবে উদ্বেগের সঙ্গেই।

Related Articles

Back to top button