নতুন পিসিআর নীতিমালা

আনাস মোহাম্মদ

নতুন সিপিআর নীতিমালা প্রকাশ করেছে দি হার্ট অ্যান্ড স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অব কানাডা

হার্ট অ্যান্ড স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অব কানাডা তাদের সর্বশেষ “দি কানাডিয়ান গাইডলাইন্স ফর কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কার্ডিওভাসকুলার কেয়ার (ইসিসি)” প্রকাশ করেছে বুধবার। এই হালনাগাদ নির্দেশিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিশুদের ক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী শ্বাস (rescue breathing) প্রদানের ওপর, যা পূর্ববর্তী নির্দেশনার তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতিমালার অন্যতম অবদানকারী এবং ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির শিশু বিভাগ (Pediatrics) অধ্যাপক ডা. ফারহাস ভাঞ্জি জানান, প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া) কারণ এক নয়। তার ভাষায়, “বড়দের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট সাধারণত হৃদরোগজনিত কারণে হয়, কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ফল। তাই শিশুদের সিপিআর দেওয়ার সময় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থাৎ রেসকিউ ব্রিদিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট দেখা দিলে শুধু বুক চেপে ধাক্কা (chest compression) নয়, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এটি শিশুর জীবিত ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক গুণ বাড়াতে পারে।

হার্ট অ্যান্ড স্ট্রোক ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডায় প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার মানুষ হাসপাতালের বাইরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এদের মধ্যে বেঁচে থাকার হার মাত্র ১০ শতাংশ (প্রতি দশজনে একজন)। তবে সময়মতো সিপিআর প্রয়োগ এবং অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডেফিব্রিলেটর (AED) ব্যবহারের মাধ্যমে এই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দিগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এই গাইডলাইনে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় যুক্ত করা হয়েছে – ১) ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের সিপিআর প্রশিক্ষণে উৎসাহিত করা: ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জরুরি মুহূর্তে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা দিতে এটি একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। ২) ৯১১ অপারেটরদের শিশুদের সিপিআর নির্দেশিকা প্রদানের দায়িত্ব: জরুরি কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিকভাবে সিপিআর করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হবে। ৩) নালোক্সোন (Naloxone) সবার জন্য উন্মুক্ত করা: অপিয়ড জাতীয় মাদকদ্রব্যের অতিরিক্ত সেবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে, প্রাথমিক সেবাদানকারীরা যেন নালোক্সোন প্রয়োগ করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ যদি কারও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন, তাহলে তাঁকে অবিলম্বে ৯১১-এ ফোন করতে হবে এবং আশেপাশে যদি AED (অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডেফিব্রিলেটর) থাকে, তা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করতে হবে। এরপরই দ্রুত সিপিআর শুরু করা উচিত। ফাউন্ডেশন জোর দিয়েছে প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান, এবং সময়মতো পদক্ষেপই কারও জীবন বাঁচাতে পারে।

চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিমালা শুধু চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তন নয়, বরং এটি সচেতনতা এবং সমাজভিত্তিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসে। ছোটবেলা থেকেই সিপিআর শেখার অভ্যাস তৈরি হলে, ভবিষ্যতে এটি অনেক প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে।

ডা. ভাঞ্জি বলেন, “যখন মানুষ ভয় না পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তখনই কারও জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। নতুন এই গাইডলাইন সেই সাহস ও সক্ষমতাকেই উৎসাহিত করছে।”

হার্ট অ্যান্ড স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অব কানাডার নতুন সিপিআর নীতিমালা চিকিৎসা ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। শিশুদের সিপিআরে রেসকিউ ব্রিদিং, নালোক্সোনের সহজলভ্যতা এবং সিপিআর প্রশিক্ষণ বিস্তারের ওপর জোর দেওয়া সব মিলিয়ে এই উদ্যোগটি কানাডায় জরুরি চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button