ভুল আয়কর দাখিল করা ব্যক্তিরা আইনি সমাধান পাবেন না

কামরুল ইসলাম

অডিটর জেনারেল কারেন হোগানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে তার কার্যালয়ের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ব্যক্তিগত আয়কর সংক্রান্ত প্রশ্নে সিআরএর কল সেন্টার কর্মীরা মাত্র ১৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর দিয়েছেন। এই তথ্য সিআরএর তথ্যসেবা মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

কানাডা রেভিনিউ এজেন্সির (সিআরএ) কল সেন্টার থেকে ভুল বা বিভ্রান্তিকর পরামর্শ নিয়ে ভুলভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া কানাডিয়ানরা কোনো আইনি প্রতিকার পাবেন না। এমনটাই জানিয়েছেন অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবী ডেভিড রটফ্লেইশ।

অডিটর জেনারেল কারেন হোগানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে তার কার্যালয়ের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ব্যক্তিগত আয়কর সংক্রান্ত প্রশ্নে সিআরএর কল সেন্টার কর্মীরা মাত্র ১৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর দিয়েছেন। এই তথ্য সিআরএর তথ্যসেবা মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কল সেন্টার মূলত ব্যবসায়িক কর ও সুবিধা সংক্রান্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো পারফর্ম করেছে, যেখানে ৫৪ শতাংশ প্রশ্নে সঠিক উত্তর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ের কর সংক্রান্ত প্রশ্নে ভুল উত্তর দেওয়ার হার অত্যন্ত বেশি, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য উদ্বেগজনক।

অডিটর জেনারেলের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সিআরএ তাদের কর্মীদের শিফট ম্যানেজমেন্ট বা সময়সূচি পূরণের বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে, বরং কলদাতাদের প্রশ্নের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেওয়ার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এই প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে করদাতারা ভুল নির্দেশনা পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

আইনজীবী ডেভিড রটফ্লেইশ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “আয়কর আইন অনুযায়ী সঠিক কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব করদাতার নিজের। কেউ যদি সিআরএর সাধারণ তথ্য লাইন থেকে ভুল তথ্য পান, তাহলেও সেটা আইনি অজুহাত হিসেবে ধরা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনি যদি সিআরএর ভুল পরামর্শে কর বিবরণীতে ভুল করেন, তবে সেই দায় আপনাকেই নিতে হবে। কারণ আইন বলছে, করদাতার উচিত নিজের কর তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া, সরকারি হেল্পলাইনের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করা নয়।”

তবে সব দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। রটফ্লেইশ জানান, যেসব করদাতা সিআরএর ভুল পরামর্শে কর জমা দিতে গিয়ে সুদ বা জরিমানার মুখে পড়েছেন, তারা চাইলে সুদ বা ফি মওকুফের আবেদন করতে পারেন। যদিও তিনি সতর্ক করে বলেন, “এটি কেবল সহানুভূতিমূলক বিবেচনায় অনুমোদন পেতে পারে; আইনত এটি অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হবে না।”

অডিটর জেনারেলের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কানাডিয়ান করব্যবস্থা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সংস্থার এমন দায়িত্বহীন আচরণ করদাতাদের আস্থাকে নড়বড়ে করছে। বিশেষত যেসব নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার ট্যাক্স সাপোর্টের জন্য সরকারি তথ্যসেবার ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিআরএকে এখন জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও কল সেন্টার ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ, ভুল পরামর্শ শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং দেশের করব্যবস্থার ওপর নাগরিক আস্থাকে গভীরভাবে আঘাত করছে।

সিআরএর ভুল তথ্যের কারণে করদাতারা যে বিভ্রান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তা স্পষ্টতই এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা। অথচ আইন অনুসারে দায়ভার পড়ছে সাধারণ নাগরিকের ওপর। ফলে কানাডার কর প্রশাসনে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Back to top button