সীমান্ত নিরাপত্তা বিল প্রত্যাহারের আহ্বান

মাসুদ করিম

ফেডারেল সরকারের নতুন সীমান্ত নিরাপত্তা বিল সি-১২ অভিবাসী ও শরনার্থীদের মৌলিক অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে কঠোর সমালোচনা করেছে কানাডার বেশ কয়েকটি মানবাধিকার ও অভিবাসী সহায়তাকারী সংগঠন।

ফেডারেল সরকারের নতুন সীমান্ত নিরাপত্তা বিল সি-১২ অভিবাসী ও শরনার্থীদের মৌলিক অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে কঠোর সমালোচনা করেছে কানাডার বেশ কয়েকটি মানবাধিকার ও অভিবাসী সহায়তাকারী সংগঠন। তারা বিলটি সম্পূর্ণ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার পার্লামেন্ট হিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো।

সংবাদ সম্মেলনে মাইগ্রেন্ট রাইটস নেটওয়ার্ক, দ্য কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিসসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন অভিযোগ করে যে, বিল সি-১২ নবটি বিদ্যমান আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও মাত্র তিন সপ্তাহ সময় রেখে বিলটি পর্যালোচনার জন্য কমন্স কমিটিগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মাইগ্রেন্ট রাইটস নেটওয়ার্কের মুখপাত্র কারেন কক বলেন “এটি একটি জটিল ও ব্যাপক আইন। অথচ যাদের জীবনে এই পরিবর্তনগুলোর সরাসরি প্রভাব পড়বে সেই অভিবাসী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বা শরনার্থী আবেদনকারীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শই করা হয়নি। তারা সাক্ষী হিসেবেও কমিটির সামনে হাজির হওয়ার সুযোগ পাননি।” ককের অভিযোগ, বিলটি পাস হলে অনেকের কর্মপারমিট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, আবার অনেকের আশ্রয় সুরক্ষা অকারণে নাকচ হয়ে যেতে পারে।

সরকার গত অক্টোবরেই মূল আইন সি-২ থেকে কিছু বিতর্কিত অংশ আলাদা করে সি-১২ তে স্থানান্তর করে, যাতে দ্রুত আইনটি পাস করানো যায়। সি-২–এ কানাডা পোস্টকে বিশেষ লেটার মেইল চালুর অনুমতি দেওয়া ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছু কঠোর বিধান যুক্ত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনগুলো অভিযোগ করে যে, সি-১২ মূলত একই বিতর্কিত প্রস্তাবকে নতুন কাঠামোয় এনে পাবলিক স্ক্রুটিনি এড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিল সি-১২–এর সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হলো কেউ যদি কানাডায় এক বছরের বেশি সময় বসবাস না করেন, তাহলে তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড-এ নতুন কোনো আবেদন করতে পারবেন না। এই বিধানটি শরনার্থী আবেদনকারীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিসের সহ-নির্বাহী পরিচালক গৌরি শ্রীনিবাসন বলেন “বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। মানুষের লিঙ্গ পরিচয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা দেখেছি, এক রাতের মধ্যে ঘোষণা আসে যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা আর নিরাপদ নয়। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ কানাডায় নতুন করে আশ্রয় চাইতে বাধ্য হতে পারেন। কিন্তু বিল সি-১২ তাদের সেই অধিকার কেড়ে নেবে।”

তিনি আরও বলেন “অভ্যন্তরীণ সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ, আইনজীবী খুঁজে পাওয়া এবং আবেদন জমা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এই আইন তাদের প্রতি সরাসরি অবিচার করবে।”

সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বিল সি-১২ দ্রুত বাতিল করতে হবে, অভিবাসী ও শরনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের নামে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, কানাডার দীর্ঘদিনের মানবাধিকার ও শরনার্থীবান্ধব নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো আইন জনগণ মেনে নেবে না।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button