সেই নাইট ক্লাবের ব্যবসায় লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক

জামির হোসেন

হিপটোনিক ক্লাব এবং এর প্রেসিডেন্ট জ্লাটকো স্টারকোভস্কি প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ক্লাব হিসেবে ব্যবসায়িক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন।

বড় অঙ্কের সরকারি তহবিল পাওয়া একটি সংস্থার সঙ্গে একই স্থানে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ ঘিরে অন্টারিও আইনসভায় তীব্র বিতর্ক শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা টরন্টো সিটি প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছিল। সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রাপ্ত নথি সেই বিষয়টিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, টরন্টোর এক্সিবিশন গ্রাউন্ডে অবস্থিত হর্টিকালচার বিল্ডিংয়ে একটি নতুন নাইটক্লাব চালুর পরিকল্পনার কথা গত ফেব্রুয়ারিতেই সিটি কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছিল হিপটোনিক ক্লাব নামের একটি কোম্পানি। চিঠিতে বলা হয়েছিল, এই নাইটক্লাব টরন্টোর রাতের জীবনকে ‘পুনঃসংজ্ঞায়িত’ করতে চলেছে।

হিপটোনিক ক্লাব এবং এর প্রেসিডেন্ট জ্লাটকো স্টারকোভস্কি প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ক্লাব হিসেবে ব্যবসায়িক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্লাবটিতে প্রতি সন্ধ্যায় টানা ব্যাঙ্গাত্মক ও প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিনোদনমূলক উপস্থাপনা চলবে। আবেদনে টরন্টোর একটি পরিচিত ব্যাঙ্গাত্মক বিনোদন গোষ্ঠীর প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়, যাদের ‘টরন্টোর সবচেয়ে যৌনাত্মক ড্যান্স থিয়েটার কোম্পানি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ক্লাবটির কর্ণধার জ্লাটকো স্টারকোভস্কির অতীতও বেশ আলোচিত। টরন্টো ও মুজিকসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত তার নাইটক্লাবগুলো শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গে জনপ্রিয় র‍্যাপার স্নুপ ডগ, কৌতুকশিল্পী রাসেল পিটারস এবং অভিনেতা চার্লি শিনের একাধিক ছবি রয়েছে। শুধু বিনোদন জগতই নয়, রাজনীতির সঙ্গেও তার ক্লাবের নাম জড়িয়ে পড়েছে। একটি ম্যাগাজিনের আর্টিকেলে তাকে টরন্টোর সাবেক মেয়র ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের প্রয়াত ভাই রব ফোর্ডের ‘প্রিয় নাইটক্লাব মালিক’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

সব বিতর্কের মধ্যেই হিপটোনিক ক্লাব ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন ক্লাব হিসেবে লাইসেন্স পায়। এরপর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘এফওয়াইই আল্ট্রাক্লাব’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে নভেম্বরের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, এফওয়াইই আল্ট্রাক্লাব যে ভেন্যুতে পরিচালিত হচ্ছে, সেই একই জায়গায় গত চার বছরে অন্টারিও সরকারের চাকরি প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি ডলার পেয়েছে একটি সংস্থা। ওই সংস্থাটি মূলত কর্মহীন বা নতুন চাকরিতে প্রবেশ করতে আগ্রহী নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

একই ভেন্যুতে একদিকে সরকারি অর্থে পরিচালিত চাকরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ক্লাব এই দ্বৈত ব্যবহারের বিষয়টি ঘিরেই অন্টারিও আইনসভায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা, তদারকি এবং নীতিগত দায়িত্ববোধ নিয়ে। বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এমন একটি স্থানে বিপুল সরকারি অর্থের ব্যবহার অনুমোদন পেল।

এই ঘটনায় এখনো তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলমান। তবে তথ্য অধিকার আইনের নথি প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি যে আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Related Articles

Back to top button