ভুল পথে সীমান্তে গিয়ে বিপাকে, তিন কানাডিয়ানের কাছ থেকে ছয়টি জাল পাসপোর্ট উদ্ধার

জুমু চৌধুরী

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ফোর্ট এরি এলাকায় পিস ব্রিজ সীমান্ত চেকপয়েন্টে সন্দেহজনক আচরণের ভিত্তিতে তিন কানাডিয়ান নাগরিককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ফোর্ট এরি এলাকায় পিস ব্রিজ সীমান্ত চেকপয়েন্টে সন্দেহজনক আচরণের ভিত্তিতে তিন কানাডিয়ান নাগরিককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নথি, নগদ অর্থ এবং প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় ফেরার সময় ওই তিনজনকে প্রথমে কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা চিহ্নিত করেন। তাদের চলাফেরা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেলে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অতিরিক্ত তল্লাশির জন্য পাঠানো হয়।

তল্লাশির সময় কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে ছয়টি জাল পাসপোর্ট উদ্ধার করেন। এছাড়া জাল নথি তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন বিভিন্ন সরঞ্জাম, প্রায় ২৪ হাজার ডলার সমমূল্যের মার্কিন ও কানাডিয়ান মুদ্রা, ৮৪টি ক্রেডিট, ডেবিট ও উপহার কার্ড এবং মাদক সেবনের উপকরণও জব্দ করা হয়। এসব উপকরণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে নায়াগ্রা-অন-দ্য-লেক সীমান্ত অখণ্ডতা ইউনিট। বিস্তারিত তদন্ত শেষে কুইবেক প্রদেশের তিন বাসিন্দার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাল নথি সংরক্ষণ, চুরি বা প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ব্যাংক কার্ড রাখার অভিযোগ এবং বিভিন্ন কানাডিয়ান আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ।

পুলিশ অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন – ডোমেনিকো চেরুবিনি (৫১), মিন নুগুয়েন (৪০) এবং ক্রিশ্চিয়ান এনডিজেজে (৩৩)। চেরুবিনি কুইবেকের গ্রানবি শহরের বাসিন্দা, আর অপর দুইজন মন্ট্রিয়ল শহরে বসবাস করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এ ধরনের অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে জাল পাসপোর্ট ও আর্থিক প্রতারণার মতো জটিল অপরাধ মোকাবিলায় সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রগুলো সীমান্তপথ ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা বাড়িয়েছে। তাই সীমান্তে কঠোর তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সাধারণ নাগরিকদেরও সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button