নিবিড় লিটারেসি প্রোগ্রাম বাতিলের ঘোষণা

মাসুদ করিম

টরন্টো ক্যাথলিক স্কুল বোর্ড (টিসিডিএসবি)-তে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চালু থাকা নিবিড় লিটারেসি কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

কানাডার টরন্টো ক্যাথলিক স্কুল বোর্ড (টিসিডিএসবি)-তে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চালু থাকা নিবিড় লিটারেসি কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বোর্ডের প্রাদেশিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফ্রাঙ্ক বেনেডেট্টো সম্প্রতি এক স্মারকে জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে চালু থাকা “ফিফথ ব্লক”সহ অনুরূপ লিটারেসি প্রোগ্রামগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে বাতিল করা হবে।

এই সিদ্ধান্ত মূলত আর্থিক চাপ মোকাবিলার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্টারিওর কয়েকটি স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠার পর টিসিডিএসবি-সহ কিছু বোর্ডে সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যয় কমানো এখন অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেনেডেট্টো তার স্মারকে উল্লেখ করেন, বোর্ডের ঘাটতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। তবে এই কর্মসূচি বাতিল করে ঠিক কত অর্থ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দেননি যা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

বর্তমান লিটারেসি প্রোগ্রামের পরিবর্তে চালু করা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের “আর্লি রিডিং ইন্টারভেনশন” মডেল। এটি একটি প্রমাণভিত্তিক কৌশল, যা ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মডেল সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর হলেও, যারা ইতোমধ্যেই পিছিয়ে পড়েছে তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা কমে যেতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো সাপ্তাহিক কর্মদিবসে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজেজ এলিমেন্টারি (আইএলই) প্রোগ্রামগুলো সরিয়ে শনিবারে নেওয়া হবে। এই প্রোগ্রামগুলো ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চের বাইরে অন্যান্য ভাষা শেখার সুযোগ দেয়, যা বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমালোচকদের মতে: শনিবারে ক্লাস হলে অংশগ্রহণ কমতে পারে, কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য এটি অসুবিধাজনক হতে পারে এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কিছু নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির সময় পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কোন কোন স্কুলে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক  দুইভাবে দেখা হচ্ছে। ইতিবাচক দিকগুলি হলো: ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানসম্মত ও গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োগ, পরিবহন ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ২. নেতিবাচক দিকগুলি হলো : পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ব্যক্তিগত মনোযোগভিত্তিক সহায়তা কমে যাবে, ভাষা শিক্ষার সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং বাস্তব সাশ্রয়ের পরিমাণ অজানা থাকায় সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ।

টিসিডিএসবি-র এই পদক্ষেপ শুধু একটি কর্মসূচি বাতিল নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রাধিকার বদলের ইঙ্গিত দেয়। ব্যয় সংকোচন ও নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী মাসগুলোতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া এই সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button